প্রকাশ: 10 Aug 2025 | 08:49am | আপডেট: 10 Aug 2025 | 08:49am
জাহাঙ্গীর রেজা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়ায় রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক নির্দোষ ব্যক্তিকে গাছ কাটার মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে বালাপাড়া ইউনিয়নের শোভানগঞ্জ এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিমগাছ, মেহগনি গাছসহ বেশ কিছু গাছ দিনে দুপুরে কেটে নিয়ে যায় সামছুল হক নামের এক ব্যক্তি। সে সময় সামছুল হক এক ভ্যানচালককে সাথে নিয়ে তার গাড়িতে ঐ কাটা গাছগুলি সড়িয়ে ফেলেন ।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে । পরবর্তীতে বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ভূমি অফিসের তহশিলদার গাছকাটার বিষয়টি সরজমিনন পরিদর্শন করেন । এ ঘটনায় ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শোভানগঞ্জ বালাপাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট -বাংলাদেশ এর ইউনিয়ন ফ্যাসিলিটেটর, সমাজ উন্নয়ন কর্মী, সমাজ সেবক,তরুন উদ্যোক্তা ,বালাপাড়া সুরক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব অজিবর রহমান লেবুকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় ।
ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গাছ কাটার ঘটনায় জনাব লেবুকে আসামি করে মামলার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে। তীব্র নিন্দা জানাতে থাকে এলাকার সচেতন মহল। এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জড়িত না থেকেও আসামি হওয়ায় ভুক্তভোগীর দাবি, আমি গাছ কাটার ঘটনায় জড়িত ছিলাম না অথচ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রভাবশালীদের কু-চক্রে আমাকে আসামি করা হয়েছে । তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান,গাছগুলো মূলত বালাপাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির ৮০ শতাংশ ভাগে এবং ইউনিয়ন পরিষদ ২০ শতাংশ ভাগে চুক্তির মাধ্যমে গাছগুলো রোপন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে দুই একটি গাছ ভেঙে পড়লে আমার কাছে খবর আসলে আমি সেই গাছের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারিনি ।
অন্যদিকে শামসুল হক নামের যে ব্যক্তি ওই গাছগুলো কেটে নিয়ে যায় তার সঙ্গেও এই বিষয়ে আমার কোন কথা হয়নি। তাছাড়াও তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিছুদিন আগে কাজগুলো কেটে ফেলার জন্য একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে অনুমতি প্রদান করেন । পরবর্তীতে আমরা সরকারিভাবে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় গাছগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি। ইতিমধ্যেই শামসুল হক নামের ঐ ব্যক্তি যখন কাজগুলো কেটে নিয়ে যায় তখন চেয়ারম্যান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু গাছগুলোকে কেন কাটা হলো , কিভাবে নিয়ে গেল, সে বিষয়ে আমি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হলেও আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি ঘটনার কিছু না জানলেও আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে আমার নাম মামলায় ঢোকানো হয়েছে।
তাছাড়াও এই ঘটনা যদি মামলা করতেই হয় তাহলে ওই গাছের ৮০শতাংশ ভাগের কারণে আমরা আমাদের সমিতি থেকেই মামলা করতে পারি অথবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই মামলা করা যেতে পারে। তা না করে উপজেলা প্রশাসন নিজ দায়িত্বে তাদের গাছ না হলেও থানায় মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গাছ কাটাসহ সরকারি সম্পদ নষ্টের ঘটনায় আসল অপরাধীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এতে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ বিষয়ে ডিমলা থানার এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে, সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।