Logo
শিরোনাম
‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে, ঘোষণা বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের
ক্রাইম ভিশন

প্রকাশ: 28 Aug 2025 | 03:20pm | আপডেট: 28 Aug 2025 | 03:20pm

‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলবে, ঘোষণা বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের

ক্রাইমভিশন ডেস্ক:

সরকারি-বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ চলমান রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের নেতারা। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এটি চলবে। আন্দোলন ও দাবির বিষয়ে সবিস্তারে তুলে ধরতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইবি) কাউন্সিল হলে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে একত্র হওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্ল্যাটফর্মের সভাপতি মো. ওয়ালি উল্লাহ।

মো. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, ‘আন্দোলনটা আমাদের তিন দফার ওপর চলছিল এবং গতকালের যে সংঘাত হয়েছে, এগুলো সুরাহা হতে হবে। আমাদের যদিও কমিটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল গতকালকে, সেটার আজকেও কিন্তু আমরা কোনো বাস্তবায়ন পাইনি। তো আমরা আমাদের কর্মসূচি যেটা রাখছি, প্রথমত আমাদের নেক্সট অ্যানাউন্সমেন্ট হওয়ার আগপর্যন্ত সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে কমপ্লিট শাটডাউন বলবৎ থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ডিপ্লোমা ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে পদগুলো শুধু ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়, সেখানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো সুযোগই দেওয়া হয় না। এটি বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে বিভাগীয় সম্মেলন এবং পরবর্তী সপ্তাহে জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। জনদুর্ভোগ এড়িয়ে চলার জন্য তারা এ ধরনের কর্মসূচিতে গিয়েছেন বলে জানান।

প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের দাবি পর্যালোচনায় এবার ১৪ সদস্যের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম। গতকাল সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, যেসব সরকারি সংস্থা প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেয়, সেসব সংস্থার প্রধানকে ওয়ার্কিং গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে গত বুধবার বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার। সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ এই কমিটি প্রথম বৈঠক করেছে।

সভা শেষে কমিটির আরেক সদস্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের এই সমস্যা নতুন নয়। বহুদিন আগের সমস্যা এটা। এ সমস্যার সমাধান করতে গেলে সবার সঙ্গে বৈঠক করতে হবে, কথা বলতে হবে। এ কারণে ১৪ সদস্যের একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

যেসব সংস্থা প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেয়, তারা এ ওয়ার্কিং গ্রুপে থাকবে উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তারা বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের কথা শুনবেন। এরপর তাদের মধ্যে যারা প্রণিধানযোগ্য, যারা এসব বিষয়ে ওয়াকিবহাল, তাদের বক্তব্য শোনা হবে। এখানে আইনগত কোনো বিষয় আছে কি না, সে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। এরপর কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে। আন্দোলনকারী ব্যক্তিরা তাদের বক্তব্য যেন লিখিত আকারে ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান গণপূর্ত সচিবকে দেন। চাইলে তারা কমিটির সঙ্গে আলোচনাও করতে পারেন। ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গেও বসতে পারেন। এ সমস্যার রাতারাতি সমাধান হবে না। কমিটিকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কমিটি সুপারিশ তুলে ধরবে।

কমিটির প্রধান ফাওজুল কবির খান বলেন, মূল কমিটি আন্দোলনকারী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বসবে। যেসব সরকারি সংস্থা প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়, বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তাদের সঙ্গেও কমিটি বসবে। এটা তো দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আশু সমাধান কী? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে কমিটির প্রধান ফাওজুল কবির খান বলেন, এটাই সমাধান। আন্দোলনকারী ব্যক্তিরা চাইলে যেকোনো সময় ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গে বসতে পারবেন। প্রকৌশলীদের তিন দফা, ডিপ্লোমাদের সাত দফা দাবি আছে। উভয় পক্ষের কথা শুনতে হবে, বুঝতে হবে। নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

ফাওজুল কবির খান আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। তাদের কাজ হচ্ছে সেতু নির্মাণ করা। দুই পক্ষকে এক জায়গায় নিয়ে আসা। ওয়ার্কিং গ্রুপ আজ থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগামী রোববার প্রথম বৈঠক হবে।

বিএসসি প্রকৌশল ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও চলমান সংকট নিরসনে সরকারকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব (শিক্ষা ও গবেষণা) ফয়সাল মাহমুদ শান্তর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিএসসি প্রকৌশল ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার কোনো সমাধানযোগ্য পদক্ষেপ না নিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারের এই দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে আন্দোলন আরও ঘনীভূত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিএসসি প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে সবাই নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের দাবি উত্থাপন করবে এবং সরকারের দায়িত্ব হলো সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানো। ছাত্র-জনতার উত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশেরই প্রত্যাশা করি। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করলাম, বিএসসি প্রকৌশল ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশ ন্যক্কারজনক হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমরা, জাতীয় নাগরিক পার্টি, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিক ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সর্বশেষ সংবাদ