বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯ | | ১৬ শাওয়াল ১৪৪০
banner

ভূরুঙ্গামারীতে অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া বন্ধুর কন্যকে ধর্ষণ!

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০৩:৪৪ পিএম

ভূরুঙ্গামারীতে অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া বন্ধুর কন্যকে ধর্ষণ!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে তিন বছর ধরে নিজের লালসার শিকার বানিয়ে রেখেছে তার বাবার বন্ধু। বাবার বন্ধু সেই ধর্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে কুচক্রীমহল। ধর্ষকের স্ত্রী অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের ঘটনাটি জনসম্মুখে নিয়ে আসে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার (কচাকাটা পুলিশ স্টেশন) বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে। দুই সন্তানের জনক ধর্ষক মকবুল হোসেন (৪৫) ওই গ্রামের কুদ্দুস প্রধানীর ছেলে। যৌন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী (নাম ও বাবার নাম গোপন রাখা হলো) জানায়, সে যখন পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তখন তার বাবার বন্ধু মকবুল হোসেন তার স্ত্রীর বাবার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে প্রথমবার তাকে ধর্ষণ করে। বাবার বন্ধু হওয়ার সুবাদে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারের সাথে মকবুলের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় মকবুল তার স্ত্রী মুক্তা বেগম ও ওই শিক্ষার্থীকে নাগেশ্বরী উপজেলার শাপখাওয়া গ্রামে মুক্তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে মকবুল ও শিক্ষার্থীটিকে একটি ঘরে রেখে বাইরে থেকে দরজা আটকিয়ে দেয় মকবুলের স্ত্রী। মকবুল সেখানেই তাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। সে কান্নাকাটি শুরু করলে মকবুল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেয় এবং কুড়িগ্রাম নিয়ে গিয়ে তাকে মৌখিক ভাবে বিয়ে করে। সে সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীটি বলদিয়া ইউনিয়নের ব্যাপারীটারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তো। তখন থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছরে ওই শিক্ষার্থীকে অসংখ্যবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছে মকবুল।

গতকাল বুধবার সকালে মকবুল ওই শিক্ষার্থীর বাড়ির মোবাইলে ফোন দিয়ে পার্শ্ববর্তী ভ্যানচালক শামছুলের বাড়িতে তাকে ডেকে নেয়। সেখানে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন কালে মকবুলের স্ত্রী মুক্তা হাতেনাতে আটক। পরে একই এলাকার আনছার আলীর ছেলে মিন্টুসহ কয়েকজন গ্রামবাসী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। এসময় মকবুল পালিয়ে যায়।

লোকলজ্জার ভয়ে শিক্ষার্থীকে বাড়িতে ঠাঁই দেয়নি তার বাবা-মা। পরে গ্রামবাসীদের সহায়তায় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে নেয়া হয় তাকে। সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম হায়দার জানান, 'মেয়েটির বাবা-মা বাড়িতে স্থান না দেয়ায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে রাখা হয়েছে।' ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, 'আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছি, দেখি শেষ পর্যন্ত কি করা যায়।'

কচাকাটা থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সর্বশেষ সংবাদ