মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ | | ২১ শাওয়াল ১৪৪০
banner

ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০৯:৩৫ পিএম

ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ঘুষ যে দেবে আর যে নেবে উভয়ই অপরাধী; সেটাই ধরে নিতে হবে। শুধু ঘুষ নিলে তাকে ধরা হবে, তা নয়; যে ঘুষ দেবে তাকেও ধরা হবে। কারণ ঘুষ দেওয়াটাও অপরাধ। সেভাবেই বিচার করতে হবে। অপরাধ যারা করছে আর অপরাধে যারা উস্কানিদাতা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা আমরা নিতে চাই।’


বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।


অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনও ধরনের অপরাধের সঙ্গে আমার দলের কেউও যদি সম্পৃক্ত থাকে, আমি কিন্তু তাদেরও ছাড় দিচ্ছি না; ছাড় দেবো না। আর অন্য কেউ যদি অপরাধ করে, তারা তো ছাড় পাবেই না। শাসনটা ঘর থেকেই করতে হবে; সেটাই করে যাচ্ছি। কোনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর কেউ যদি এ ধরনের অপরাধ করে, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এটা অব্যাহত থাকবে।’


সমাজ থেকে অনিয়ম দূর করতে সব সংসদ সদস্যসহ সমাজের সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সমাজ থেকে অবিচার-অনিয়ম দূর করতে হবে। এজন্য সমাজের সচেতনতা থাকা একান্ত কর্তব্য। এটা শুধু একটি বাহিনীর বা কারও একজনের ওপর নির্ভরশীর নয়। এজন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। দুর্নীতি আমরা করবো না; দুর্নীতি করতে দেবো না। সবাই এক হয়ে কাজ করলে সমাজ থেকে অনিয়ম দূর করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবো।’


তিনি বলেন, ‘কোনও দেশ যখন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নতি হয়, তখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে টাউট-বাটপার বা বিভিন্ন ধরনের লোক সৃষ্টি হয়। কিন্তু তাদের দমন করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সম্ভব নয়, সামাজিকভাবেও করতে হবে। জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক আর দুর্নীতি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিশিষ্টজনকে নিয়ে এলাকায় এলাকায় কমিটি করতে হবে; কোনও অন্যায়কে কেউ যেন প্রশ্রয় না দেয়।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেকে সবসময় জনগণের সেবক মনে করি। প্রধানমন্ত্রিত্ব হলো আমার মানুষের জন্য কাজ করার একটি সুযোগ। সবসময় চেষ্টা করি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য যতটুকু কল্যাণ করা যায় তা করার; অন্যায়-অবিচারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার।’

এর আগে রওশন আরা মান্নানের মূল প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্নয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।’


তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দফতরে দুর্নীতি দমন কমিশনের তাৎক্ষণিক অভিযানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসছে; বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দফতরে দুর্নীতির মাত্রা ক্রমান্নয়ে হ্রাস পাচ্ছে।’

সর্বশেষ সংবাদ