মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ | | ২১ শাওয়াল ১৪৪০
banner

বগুড়ায় ‘পীর ডাক্তারের’ নির্দেশে বৃহস্পতিবার ঈদ!

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৯, ০৯:০৫ পিএম

বগুড়ায় ‘পীর ডাক্তারের’ নির্দেশে বৃহস্পতিবার ঈদ!

বগুড়া জেলার সব স্থানে বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলেও শাজাহানপুর উপজেলার পারতেখুর গ্রামের তিন শতাধিক বাসিন্দা রোজা রাখেন। তারা এক ‘পীরের’ নির্দেশে ও তার ইমামতিতে বৃহস্পতিবার নামাজ আদায় ও ঈদ উৎসব করেন।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) সহকারী অধ্যাপক শাহ সুফী হযরত মাওলানা ডা. মো. আবদুল মান্নান পীর কেবলার এহেন সিদ্ধান্তে গ্রামে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে বিষয়টি ধর্মীয় স্পর্শকাতর হওয়ায় কেউ বাধা দেননি।

ডা. মান্নান ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম ও অন্যরা জানান, সরকারি ডাক্তার আবদুল মান্নান পৈতৃক সূত্রে পীর। তিনি নন্দীগ্রাম উপজেলার আইলপুনিয়া গ্রামের দরবারে মোজাদ্দেদিয়া (ফুরফুরা শরীর) পীর কেবলা। তিনি পারতেখুর ঈদগাহ মাঠে ইমামতি করেন।

বুধবার সকালে তার ইমামতি করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। তিনি প্রতারণা করে তার পরিবর্তে মাওলানা আহম্মেদ আলী মুন নামে একজনকে পাঠিয়েছিলেন। স্বচক্ষে শাওয়ালের চাঁদ দেখতে না পাওয়ায় ‘পীর’ ডা. মান্নান তার অনুসারীদের বুধবার রোজা রাখতে নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পারতেখুর গ্রামের ফতেহিয়া ওয়ায়সিসা দরবার শরিফ প্রাঙ্গনে ঈদের নামাজ আদায় করেন তিন শতাধিক গ্রামবাসী। ইমামতি করেন ডা. আবদুল মান্নান পীর কেবলা। ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়ানো ইমাম মাওলানা মুন আবারো সেখানে নামাজ আদায় করেন।

ইউপি সদস্য শহিদুল বলেন, বৃহস্পতিবার আকাশে যে চাঁদ দেখা গেছে তাতে সরকারের বুধবার ঈদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কিন্তু ‘পীর’ আবদুল মান্নান একজন সরকারি চিকিৎসক হওয়ার পরও সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পরদিন ঈদ উদযাপন ও নামাজ পড়ানোর ঘটনায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

আশেকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিযোগ করেন, ডা. আবদুল মান্নান একজন ভণ্ড পীর। তিনি শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষক হলেও অসুস্থ অনুসারীদের তেল এবং ‘পানি পড়া’ দেন। তার দরবার শরীফে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে তামাশা চলে।

বুধবার স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে নামাজের আগে মুসল্লিদের সঙ্গে ওই পীরের ভক্তদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তারা এসব ইসলাম বিরোধী কাজ বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‘পীর’ ডা. আবদুল মান্নান পরিচালিত পারতেখুর কাসেমিয়া গিয়াসিয়া দারুস সুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার দেখাশোনাকারী ঠিকাদার আবদুল মোত্তালিব জানান, পীর সাহেব কাউকে বৃহস্পতিবার ঈদ পালন ও নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেননি। ১৫০ জন ভক্তের চাপেই তিনি বৃহস্পতিবার ঈদের নামাজে ইমামতি করেছেন। এছাড়া পীর সাহেব হৃদরোগী তাই তিনি ফোন ধরা বা এ প্রসঙ্গে কোন কথা বলবেন না।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন পারতেখুর গ্রামে বৃহস্পতিবার ঈদের নামাজ আদায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

একদিন পর ঈদের নামাজ আদায় প্রসঙ্গে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, একজন শিক্ষিত মানুষের এমন কাজ করা ঠিক হয়নি।

এ প্রসঙ্গে পীর বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরা ও বন্ধ করে দেয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ সংবাদ