মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ | | ২১ শাওয়াল ১৪৪০
banner

ঈদ আনন্দ পদ্মা সেতু এলাকায়

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৯, ১২:৪৪ পিএম

ঈদ আনন্দ পদ্মা সেতু এলাকায়

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

আস্তে আস্তে প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ইতোমধ্যে সেতুর ১৯৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। প্রথম স্প্যান বসানোর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে সেতুটিকে ঘিরে।


ঈদের ছুটিতে অনেকে ছুটে যাচ্ছেন ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ দেখতে। সেতু দেখতে পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে প্রতিদিনই ঢল নামছে মানুষের।


বৃহস্পতিবার ঈদের দ্বিতীয় দিনে বৈরী আবহাওয়া না থাকায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে হাজার মানুষ আসেন পদ্মা সেতুর পাড়ে। হাজারো মানুষের পদচারণায় নদী তীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।


বৃহস্পতিবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাওয়া কুমারভোগ ফেরিঘাট থেকে পুরাতন ফেরিঘাট পর্যন্ত নদী তীরজুড়ে বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষের ঢল। স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ আসেন। সব বয়সী মানুষ ধূসর রংয়ের নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু দেখে অভিভূত হন।


দর্শানার্থীদের অনেকে ট্রলার ও স্টিডবোটে করে মাঝনদীতে ঘুরে বেড়ান আর পদ্মাসেতুর দৃশ্য অবলোকন করেন। আবার অনেকে দূর থেকেই নির্মাণাধীন সেতুকে ফ্রেমেবন্দী করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকেন। কেউ সেতুর ছবি তুলছেন আবার কেউ সেলফি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। অনেকে নদীর বেলাভূমিতে হেঁটে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।


কুমিল্লার লাকসাম থেকে আসা আহসানউল্লাহ ভূইয়া ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পদ্মা সেতু এলাকায় আসার। এবার ঈদের ছুটিতে সেই সুযোগটা মিস করতে চাইনি। তার গাড়ি নিয়ে পরিবারের সবাই সেতু দেখতে চলে এসেছি।’


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহারিয়ার আলম জানান, ‘আমরা ছয় বন্ধু নির্মাণাধীন পদ্মসেতু দেখতে এসেছি। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। পদ্মার হিমেল হওয়ার সঙ্গে কাছ থেকে সেতুকে দেখে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’


ঢাকার শ্যামপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আফরোজা পারভীন জানান, ‘দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় বাড়ি লৌহজংয়ে বেড়াতে এসেছি। পদ্মা সেতুর খবর প্রায় টিভি-পত্রিকায় দেখি। নিজ চোখে দেখতে তাই এখানে আসা।’


সেলিম আহমেদ নামে এক স্কুলশিক্ষক বলেন, স্প্যান বসানোর পর থেকে সেতুর নির্মাণকাজ দেখতে দুই ছেলেমেয়ে অনেকদিন ধরেই বায়না ধরেছে। তাদের আবদার মেটাতে স্বপ্নের সেতু দেখতে এসেছি। ভালোই লাগছে।


তাদের পাশেই থাকা কামাল জানান, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিহাস। ইতিহাসের সাক্ষী হতে আমিও দুই সন্তানকে নিয়ে দেখতে এসেছি।


ঈদের ছুতি থাকলেও থেমে নেই সেতুর নির্মাণকাজ। দিনরাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে দ্বিতলা বিশিষ্ট পদ্মাসেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ১৩টি স্প্যান বসানো হয়েছে। গত ২৫মে ১৩তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় সেতুর ১৯৫০ মিটার।

সর্বশেষ সংবাদ