সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ | | ২২ রমজান ১৪৪০
banner

নরসিংদীতে দেশী বাঙ্গির চাহিদা রয়েছে রমজানে, লাভবান হচ্ছে কৃষক, খাচ্ছে রোজাদারেরা

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০৫:৪৪ পিএম

নরসিংদীতে দেশী বাঙ্গির চাহিদা রয়েছে রমজানে, লাভবান হচ্ছে কৃষক, খাচ্ছে রোজাদারেরা

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ গ্রাষ্মীকালীন বিভিন্ন ফলের মধ্যে বাঙ্গি বা ফুটি অন্যতম। চাষ পদ্ধতি সহজ, ফলনও হয় সন্তোষজনক। আর কম খরচে ভালো মুনাফা প্রাপ্তির কারণে দিনদিন বাঙ্গি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই নরসিংদী জেলার চরাঞ্চলেউৎপাদিত বাঙ্গি জেলার বিভিন্ন হাটবাজার, স্টেশন ছাড়াও চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন মোকামে। বাঙ্গির দামও তুলনামূলকভাবে কম। তাই সব শ্রেণির মানুষই কম বেশি ক্রয় করে এই ফল। মাত্র ৯০ দিনে বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়ায় অনেক কৃষকই বাঙ্গি চাষে ঝুঁকছেন।

যেহেতু পবিত্র মাহে রমজান মাস। তাই সারাদিন সিয়াম সাধনার পরে বাঙ্গি ও হালকা চিনি নিয়ে ইফতার করলে জুড়িয়ে যায় যেন সারাদিনের ক্লান্তি।

জেলার ৬ টি উপজেলাতেই কমবেশি চাষ হয় বাঙ্গির। জেলার শিবপুর বাজার, বারিচা, নারায়নপুর, বেলাব, মরজাল, যোশর, রায়পুরা, পলাশতলী, চৈতন্যা, ইটাখোলা, জয়নগর, দড়িপাড়া, আমলাব, হাসনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হয় প্রচুর পরিমাণ বাঙ্গি। রায়পুরা উপজেলা চারটি ইউনিয়নে এ বছর প্রচুর পরিমাণে বাঙ্গি চাষ হয়। 

চরাঞ্চলের কৃষক কফিল উদ্দিন জানান, বাঙ্গি ফল ওঠে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। এ ফসল চাষে বাড়তি কোনো ধরনের খরচ নেই বললেই চলে। সাথী ফসল হিসেবে এটি আবাদ করায় মূল ফসলের খরচ দিয়েই বাঙ্গি চাষ করা যায়। উৎ্পাদন খরচ বলতে শুধুমাত্র জমি চাষ ও আগাছা বাছাই করা। করিমপুর গ্রামের কৃষক সেলিম খান জানান, ৩০ শতক জমিতে বাঙ্গি চাষ করলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়। আকারভেদে প্রতিটি বাঙ্গি পাইকারি ১৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। অনেক পাইকাররা ক্ষেত থেকেই বাঙ্গি কিনে নিয়ে যান।

রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বাঙ্গি চাষ ও এর ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন মাঠকর্মীরা।

বাঙ্গি ছোট-বড় নানা আকারের হয়। একটু বেশি পেকে গেলে বাঙ্গি সহজে ফেটে যায়। সুগন্ধযুক্ত স্বাদের বাঙ্গি পুষ্টিগুণে অনন্য। বাঙ্গির নানা গুণ। এর ফলিক এসিড রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। বাঙ্গিতে নেই কোনো চর্বি বা কোলস্টেরল। দেহের ওজন কমাতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে এর ভূমিকা অনেক। বাঙ্গি খেলে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে, ত্বক হয় মসৃণ। এসিডিটি, আলসার, নিদ্রাহীনতা, ক্ষুধামান্দ্য, নারীর হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধ করে বাঙ্গি। তাই বাঙ্গি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎ্সকরা।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের ডা. মো. জসিম জানান, এ ফলে রয়েছে উচ্চ পরিমাণের ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন। বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি’র সংমিশ্রণে শরীরের কাটাছেঁড়া দ্রুত শুকায়। এতে চিনির পরিমাণ খুব কম। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও বাঙ্গি যথেষ্ট উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ডায়াটারি ফাইবার, যা খাবার হজমে সাহায্য করে। নিয়মিত বাঙ্গি খেলে চুল হয় উজ্জ্বল ও সুন্দর।

সর্বশেষ সংবাদ