সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ | | ২২ রমজান ১৪৪০
banner

নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র ফজর রহমান সাব্বিরকে উদ্ধার করল গোয়েন্দা শাখা কর্মকর্তারা

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০৪:৩৬ পিএম

নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র ফজর রহমান সাব্বিরকে উদ্ধার করল গোয়েন্দা শাখা কর্মকর্তারা

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী  প্রতিনিধিঃনরসিংদীতে আমিরগঞ্জ মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে নিখোঁজ মাদ্রাসার ছাত্র মোছাঃ বিলকিস বেগম এর বসতবাড়ী হইতে তাহার ছেলে ফজর রহমান সাব্বির(১৩) কে বিগত ৮ মাসপূর্বে ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে কৌশল খাটিয়ে প্রলোভন দেখাইয়া হাসনাবাদ বাজার থেকে ট্রেন যোগে চট্রগ্রাম নিয়ে যায়।

সেখান হইতে আসামী নাজিম, নাম ঠিকানা অজ্ঞাত এর নিকট হস্তান্তর করিলে নাজিম পরেরদিন সকালে রাঙ্গামাটির মানিক ছড়ি নিয়ে আসামী খোকনের নিকট বিক্রি করিয়া দেয় এবং খোকন তার উপর নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। আসামী খোকন সাব্বিরকে রাঙ্গামাটির বরকল থানাধীন কুসুমতলি নামক স্থানে নিয়া জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাছ ধরার কাজে নিয়োগ করে। ফজর রহমান সাব্বির কয়েক বার কৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে মারপিটসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আটকিয়ে রাখে এবং সাব্বির সহ অন্যান্যদের নিয়ে মাছ ধরানোর কাজ করাত।

অতপর অনুমান ০১ মাস পর কৌশলে এক দিন সাব্বির আসামী খোকনের মোবাইল ফোন নম্বর  দিয়ে তাহার মা মোছাঃ বিলকিস বেগমের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তার মা জানতে পারেন সাব্বিরকে আটকিয়ে রেখে মাছ ধরানোর কাজ করানো হচ্ছে। পরবর্তীতে মোছাঃ বিলকিস বেগম উক্ত নম্বরে একাধিক ফোন করিলে আসামী খোকন জানায় তাহার ছেলেকে সে ক্রয় করে রেখেছে এবং তারা তার ছেলেকে আর ফেরৎ দিবে না বলে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন। 

এসময় মাদ্রাসা ছাত্র ফজর রহমান সাব্বির মা মোছাঃ বিলকিস বেগম ও তাহার পরিবারের লোকজনকে নিয়েএকাধিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ছেলেকে উদ্ধার করিতে ব্যর্থ হয়। এমতাবস্থায় মোছাঃ বিলকিস বেগম কোন উপায় না পেয়ে পুলিশ সুপার, নরসিংদী বরাবর তাহার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য লিখিত আবেদন করিলে পুলিশ সুপার, নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দেন। 

জেলা গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক ও পুলিশ সুপার, নরসিংদীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় মোছাঃ বিলকিস বেগমের ছেলে সাব্বির ও আসামীর অবস্থান নির্নয় পূর্বক পুলিশ সুপার, রাঙ্গামাটির সহায়তায় সাব্বিরকে গত১৪ য়ে মে ১৯  খ্রিঃ তারিখ রাংঙ্গমাটি জেলার কোতয়ালী থানা এলাকা হইতে উদ্ধার করা হয় এবং আসামী খোকনকে গ্রেফতার করা হয় ।

এদিকে গোয়েন্দা সূত্রের বরাদ নিয়ে জানা যায় যে, আসামী খোকন প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম ফজর রহমান সাব্বিরকে অর্থের বিনিময়ে গ্রহন করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাছ ধারার কাজে নিয়োজিত করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। 

মাদ্রাসা ছাত্র ফজর রহমান সাব্বিরএর বক্তব্যে জানা যায়, রাঙ্গামাটি বরকল এলাকায় মাছ ধারার মৌসুমে দালাল চক্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অল্প বয়সী ছেলেদের নিয়ে বিভিন্ন নৌকায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত করা হয়। 

এ সংক্রান্তে আজ ১৫ য়ে মে দুপুরে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার, নরসিংদী জনাব মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, বিপিএম, পিপিএম মহোদয় মাদ্রাসা ছাত্র ফজর রহমান সাব্বিরকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

সর্বশেষ সংবাদ