বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ | | ১৯ শা'বান ১৪৪০
banner

শ্রীনগরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:১৫ পিএম

 শ্রীনগরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

মোহন মোড়ল, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ শ্রীনগরে হোগলাগাঁও হাজী রিয়াজুল ইসলাম দারুসচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবুল বাশার তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ছাত্র-ছাত্রীর নাম ঠিকানা অন্তভুক্তির মাধ্যমে নিজের পছন্দমতো মাদ্রাসা কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ততা দেখিয়ে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত, ভুয়া বিল ভাউচার করে মাদ্রাসার অর্থ হাতিয়ে নেয়া, শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত বেতন চালু করণের আশ্বাষ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই মাদ্রাসা আবুল বাশারের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও মোট ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, সুপার আবুল বাশার ঢাকার কেরানীঞ্জের আটি বাজার এলাকায় ভাড়া থাকেন। তিনি মাসের ১৫ দিনই নানান অজুহাতে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না। ফাতেমা নামে ২০১৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মহিলা কাগজপত্রে ওই মাদ্রাসার শিক্ষিকা হিসেবে পাওয়া গেলেও রহস্যজনকভাবে মাদ্রায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু ফাতেমা নামে প্রতিমাসে বেতন উত্তলন করা হচ্ছে। ২০০৩ সালে আবুল বাশারের কারসাজিতে ২৬৪ নং ভোটারে নবম শ্রেণীর ছাত্র আবু নাছের মিয়ার অভিভাবক দেখিয়ে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে অভিভাবক প্রতিনিধি করা হয়। এরি ধারাবাহিকতায় পরের বার ২০৩ নং ভোটারের নামের তালিকায় একই কায়দায় শহিদুল ইসলামকে অন্তভুক্তি করে পুনরায় তাকে অভিভাবক প্রতিনিধি হতে সহযোগিতা করার অভিয়োগ রয়েছে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে গত ১১ নভেম্বর জেডিসি পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাসার খরচ বাবদ ম্যাজিস্ট্রেট সম্মানি ১ হাজার টাকা, ১৮ নভেম্বর পুনরায় সম্মানি বাবদ ২ হাজার ৫০০ শত টাকা, গত ১৫ অক্টোবর ডেসিডি পরীক্ষার ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বাসায় ফল-মিষ্টি পাঠানো বাবদ ৫ হাজার টাকা ভাউচার তৈরী করেন তিনি। এবছর চার জন বহিরাগত ছাত্রকে কাগজ কলমে হোগলাগাঁও মাদ্রাসার নিয়মিত ছাত্র দেখিয়ে দাখিল পরীক্ষার সুযোগ তৈরী করে দিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসার শিক্ষক মনিরুল ইসলামকে এমপিও ভুক্ত বেতন চালু করার আশ্বাষ দিয়ে ৬০ হাজার টাকা, মাদ্রাসায় চাকরী দেয়ার কথা বলে সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন যাবৎ মাদ্রাসার কমিটি না থাকার করণে এসুযোগে আবুল বাশার অনিয়ম ও দূর্নীতিতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার এসমস্ত দুর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মাদ্রাসার সহকারী সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার সুপার আবুল বাশার সাহেবের কাছে মাদ্রাসার হিসাব নিকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা করেন তিনি। তার হামলায় আমি আহত হয়েছি। ১৮ টা মামলা হয়েছে এতে আমার কিছু হয়নি। তোমরা কিছুই করতে পারবেনা বলে হুমকি দেন বলে জানান সহকারী সুপার।

হোগলাগাঁও হাজী সিরাজুল ইসলাম দারুসচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবুল বাশারের কাছে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন মাদ্রাসার কাজে ব্যস্ত আছি। অফিসের কাজগপত্র না দেখে কিছুই বলতে পারবো না।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলামের কাছে সুপারের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে এখনই এ বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

 

সর্বশেষ সংবাদ