বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ | | ১৯ শা'বান ১৪৪০
banner

দাদির পাশে চিরঘুমে নুসরাত

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০৬:৫৯ পিএম

দাদির পাশে চিরঘুমে নুসরাত

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানা মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।


এর আগে নুসরাতের জানাজায় অংশ নিতে হাজারও মানুষের ঢল নামে। স্থানীয় ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা হাজারও মানুষ তার নামাজের জানাজায় অংশ নেন।


৫টা ৫০ মিনিটে স্থানীয় মো. ছাবের সরকারী পাইলট হাইস্কুল মাঠে তার নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন তার বাবা একেএম মুসা।


জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে রাফিকে সমাহিত করা হয়। এর আগে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় নিথর নুসরাতের লাশবাহী গাড়ি।


বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। 


উল্লেখ, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে।


এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।


এরপর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন নুসরাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার অবস্থা সিঙ্গাপুরে নেয়ার মতো ছিলো না। তবে সিঙ্গাপুরের ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসা চলছিলো নুসরাতে। মঙ্গলবার লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় নুসরাতের অস্ত্রপচার করা হয়। 

সর্বশেষ সংবাদ