বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ | | ১৯ শা'বান ১৪৪০
banner

ছাদে পাওয়া গেল মাদরাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার ছাই

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৫৪ পিএম

ছাদে পাওয়া গেল মাদরাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার ছাই

পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টায় দগ্ধ ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। এদিকে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার সেই ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে ছাই এর আলামত।


ইতোমধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় কারান্তরীণ অধ্যক্ষকে মাদ্রাসা থেকে সামায়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং রবিবার থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার সোনাগাজী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা কেন্দ্রে থেকে পরীক্ষা শেষে অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফির ওপর হামলা কারীদের বিচার চেয়েছে পরীক্ষার্থীরা।


চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি যেহেতু স্পর্শকাতর সেহেতু দুটি বিষয় বা সূত্রকে সামনে রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। একটি আত্মহত্যার চেষ্টা অন্যটি ছাত্রীর অভিযোগ হিসেবে চারজন দুর্বৃত্ত দ্বারা তাকে হত্যার চেষ্টা।


ইতোমধ্যে মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও আলিম পরীক্ষার্থী ছাত্র হাফেজ আরিফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ছাত্রীর পরিবার যেহেতু ছাত্রীর চিকিৎসা কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন সেহেতে তারা লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে পরবর্তীতে মামলা রুজু করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাতকারে ওই কেন্দ্রের একজন পরীক্ষার্থী বলেন, হলে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করার সময় সবাই একটি মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। পরীক্ষার্থীরা প্রথম ভেবেছিল কোথাও আগুন লেগেছে।


আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটকৃত দুইজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে। যদিও আগুনের ঘটনাটি এখনো রহস্যবৃত। রহস্য উদঘাটনে কিছুটা সময় লাগবে। থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসময় এএসপি সদর সার্কেল উক্য সিং, এএসপি সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেল সাইকুল আহম্মদ ভূঞা, ওসি মো. মোয়াজ্জ হোসেন, ওসি (তদন্ত) মো.কামাল হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।


মাদ্রাসার সার্বিক নিরাপত্তার সার্থে দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অধ্যক্ষের কার্যালয় দ্বিতীয়তলা থেকে স্থানান্তর করে শিক্ষক মিলনায়তনের পাশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ছাত্রীদের জন্য নীচতলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমন রুম ও শৌচাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং আলিম বোর্ড পরীক্ষা চলাকালীণ সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা পুলিশ দিয়ে প্রবেশ পথে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ