শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯ | | ২০ রমজান ১৪৪০
banner

নির্দোষ জাহালমের জামিন না হওয়ার দায় দুদককে নিতে হবে : হাইকোর্ট

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৯, ০৭:০৫ পিএম

নির্দোষ জাহালমের জামিন না হওয়ার দায় দুদককে নিতে হবে : হাইকোর্ট

সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতিসংক্রান্ত ৩৩টি মামলার সব কাগজপত্র দুদককে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, দুদক যখন জানতে পারল জাহালম নির্দোষ, তখন তার জামিন করানো উচিত ছিল। এর দায় দুদককে নিতেই হবে।


নিরীহ জাহালমের কারাভোগসংক্রান্ত মামলার শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।


এ মামলায় দুদকের পক্ষে হলফনামা জমা দেন আইনজীবী খুরশীদ আলম। শুনানিতে সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে জাহালমকে কীভাবে ২৬ মামলার আসামি করা হয় এবং দুদকের অধিকতর তদন্তে জাহালম কীভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হন- এসব ব্যাপারে হলফনামা থেকে আদালতকে পড়ে শোনান তিনি।


শুনানির এক পর্যায়ে দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, দুদককে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সুপারিশের মধ্যে না থেকে দুদককে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দুদকের মতো একটা জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা হোক, তা আমরা চাই না। আগে দুর্নীতিবাজদের মানুষ ঘৃণা করত। আমাদের নৈতিক অধঃপতন হয়েছে।


এ সময় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম আদালতকে জানান, সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিসংক্রান্ত মামলাগুলোর অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন বিচারিক আদালতে জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাহালমের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ প্রত্যাহার চেয়েও আদালতে আবেদন করা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তাসহ সাক্ষীরা জাহালমকে সালেক বলে শনাক্ত করেন। তবে অধিকতর তদন্তে জানা যায়, প্রকৃত আসামি সালেকের বাড়ি ঠাকুরগাঁও।


এ সময় আদালত খুরশীদ আলমের কাছে জানতে চান, জাহালম যে নির্দোষ এটা আপনারা কবে জানলেন আর কবে আদালতে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেন? তখন দুদকের এই আইনজীবী জানান, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন তিনি আদালতে নিয়ে এসেছেন। এগুলো সবই আদালতে জমা দেবেন। আদালত তখন তার উদ্দেশে বলেন, যখন আপনারা জানতে পারলেন জাহালম নির্দোষ, তখন আপনাদের উচিত ছিল তার জামিনের ব্যবস্থা করা। জাহালম বলে আসছেন, তিনি নির্দোষ। পিপিরা জানলেন কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর দায় আপনাদের নিতেই হবে।


এর জবাবে খুরশীদ আলম আদালতকে জানান, জাহালমকে যে ২৬ মামলার আসামি করা হয়, সে সংক্রান্ত সব কাগজপত্র তিনি আদালতে জমা দেবেন। আদালত তখন বলেন, সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনার ৩৩টি মামলার সব কাগজপত্র আদালতে জমা দেবেন। আমরা সব দেখব। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ১৮টি ব্যাংক। ১৮টি ব্যাংককে পার্টি করবেন। ১৮টি ব্যাংকের কাগজপত্র জমা দেবেন। সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় কতজন ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছেন- আমরা তা দেখব। যাকে আসামি করা উচিত ছিল, তাকে সাক্ষী করেছেন।


এ সময় আদালত আরও জানতে চান, কবে এসব কাগজপত্র জমা দেবেন? তখন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেন। এরপর আদালত আগামী ১০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।


এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নির্দোষ জাহালমের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত সেদিন প্রতিবেদনটি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। আদালত এ সময় শুনানি নিয়ে জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন। একই সঙ্গে নির্দোষ জাহালমের গ্রেপ্তারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রতিনিধি ও আইন সচিবের প্রতিনিধিকে ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। 


এরপর সেদিন দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত), মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, স্বরাষ্ট্র সচিবের (সুরক্ষা) প্রতিনিধি যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেন এবং আইন সচিবের প্রতিনিধি সৈয়দ মুশফিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হন। সেদিনই শুনানি নিয়ে জাহালমকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত।

সর্বশেষ সংবাদ