রোববার, ২৪ মার্চ, ২০১৯ | | ১৭ রজব ১৪৪০
banner

যে কায়দায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি!

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৯, ০৪:১৫ পিএম

যে কায়দায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি!

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের এবং ব্যবসায়ীদের টার্গেট করত প্রতারক চক্রটি। পরে তাদের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে শেয়ার হোল্ডার বানানোর লোভনীয় অফার দেয়া হতো। অফারে ভিকটিমরা রাজি হলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যেত চক্রটি। এভাবে প্রতারক চক্রটি গত ১৫ বছর ধরে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আনুমানিক ১০০ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নেয় সাধারণ মানুষজনদের কাছ থেকে।


শুক্রবার (১ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে (২ মার্চ) শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত র‍্যাব -৪ এর একটি টিম রাজধানীর মিরপুর, দারুস সালাম, উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভুয়া নথিপত্র ও সরঞ্জামাদি জব্দসহ এই চক্রের ২২ সদস্যকে গ্রেফতার করে। শনিবার (২ মার্চ) বেলা ১১টায় র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। 


গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইমরান হাসান (২৭), হুমায়ুন কবির হালিম (৫৭), মো রফিকুল ইসলাম (৪৯) আব্দুল বারী আব্দুল আউয়াল (৪০), শাহাদাত হোসেন (৩০), মো. মিনহাজ (৫৬), কামরুজ্জামান (৪৬), মো. হাবিবুর রহমান (৩৫), সঞ্জিত সাহা (৩৪), মেহেদি হাসান হাবিব (৩১) ইউসুফ (৫৩), মামুনুর রশীদ চৌধুরী (৩৪), মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ওরফে আব্দুল জলিল (৫০), মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (৩৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৬৪), এবং মো. মিজান (৩৫)।


সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘সুসজ্জিত অফিস ও দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অফিস খুলতো চক্রটি। পরে টার্গেট করা লোকদের কৌশলে অফিসে এনে ভুয়া চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে নিতো তারা। তাদের বলা হতো- এই চুক্তির মাধ্যমে তাদের কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পরে কিছু দিন যাওয়ার পর তাদের কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার করার প্রস্তাব দেয় চক্রটি।’


এই প্রস্তাবে ভিকটিমরা রাজি হলে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা চায় চক্রের সদস্যরা। পরে নগদ অর্থ হাতে পাওয়ার পরপরই অফিসসহ উধাও হয়ে যেত প্রতারক চক্রটি।


তিনি আরও বলেন, এই প্রতারক চক্রটি অন্য সব প্রতারক চক্রের মতো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতো না। তারা প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে একটি সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতো। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করত। প্রতিটি গ্রুপে ৫টি স্তরে তাদের সদস্যরা কাজ করতো। স্তরগুলো হল- সাব ব্রোকার, ব্রোকার, ম্যানেজার, চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ কোম্পানির প্রধান বস।


মোট পাঁচটি কৌশল অবলম্বন করে তারা এই প্রতারণা করে আসছিল বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের উপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন, এনজিও সেজে বিনা খরচে সোলার প্যানেল স্থাপনের চুক্তি, ইট পাথর রড সিমেন্ট গার্মেন্টস ঠিকাদারি দেয়ার কথা বলে এবং অফিসে নিয়ে এসে তাস খেলার ফাঁদে ফেলে ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিত চক্রটি।


গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান।

সর্বশেষ সংবাদ