রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ | | ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০
banner

অভিযোগ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের

নরসিংদীতে ৭ জামায়াত শিবিরের শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করে আসছে কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়!

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৫১ পিএম

নরসিংদীতে ৭ জামায়াত শিবিরের শিক্ষক দিয়ে পরিচালনা করে আসছে কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়!

সাইফুল ইসলাম  রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদী বেলাব উপজেলায় কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়টি জামায়াতে ইসলামীর আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক আদর্শে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অনুমোদনের বাইরে জামায়াতের দলীয় আদর্শের অনুকূল পাঠ্যবই পড়ানো হয় এই বিদ্যালয়ে।

এ ছাড়াও এই বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য সহ বিভিন্ন ছাত্রদেরকে জামায়াতের নেতৃত্ব দেওয়ার কার্যকর ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন এই বিদ্যাললয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ হানিফ মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

এদিকে একই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, গেস্ট টিচার দিয়ে ৯ম দশমের ক্লাস করে।

এছাড়াও আইসিটি বিভাগের দায়িত্বে থাকা নাজমা আক্তার তার নিবন্ধন ছাড়াই মোটা ঘুষ দিয়ে প্রধান শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত হওয়ার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই বিষয়ে এলাকার লোকজন ও অভিবাভকগন আন্দোলন করলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য ব্যক্তিগন বিষয়টি ধামা চাপা দিতে রাতের আঁধারে উঠান বৈঠক করে বলে অভিযোগ করেন। 

এসব স্কুলের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। আবার কোনো কোনো বিভাগ পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরাও রয়েছেন।

এই কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন বিভিন্ন সময়ে রাতের আঁধারে জামায়াতে ইসলামকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ করেন অবিভাবকগন। এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা উগ্র ধর্মীয় মতবাদে দীক্ষিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিভাবকগন।

কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচালনার ব্যয়নির্বাহে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া ভর্তি ফি, টিউশন ফি, মাসিক বেতন, সেশন ফি, কোচিং ফি ইত্যাদির বাইরেও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও দাতা সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আসে। 

কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবায়েদ হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি ও পরবর্তীতে আমার সদস্যদের সাথে আলাপ করে আপনার সাথে এ বিষয়ে মন্তব্য করব। 

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ হানিফ মাষ্টার সংবাদ কর্মী রুদ্রকে বলেন, সাত সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের সবাই জামায়াত শিবির সহ বিএনপির সদস্য। তিনি বলেন, একমাত্র সরকারের সঠিক উদ্যোগ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই স্কুলটি পরিচালনা করলে জামায়াত শিবিরের হাত থেকে ১৩ শত ছাত্র-ছাত্রী রক্ষা পাাবে। 

এদিকে একই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা সংবাদ কর্মীদের উদ্যেশ্যে বলেন, বিগত সময়ে এই বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য করায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমাদের বিদ্যালয়ে এসে কোচিং রুমটি সিলগালা করার নির্দেশ প্রদান করেন ও একটি রিপোর্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

সর্বশেষ সংবাদ