রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ | | ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০
banner

মাদক বিরোধী যুবকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

সিরাজদিখানে মাদকসহ ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিলেন আওয়ামীলীগ নেতা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৮ পিএম

 সিরাজদিখানে মাদকসহ ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিলেন আওয়ামীলীগ নেতা

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 

দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন মাদককে জিরু টলারেন্স ঘোষণা করেছেন ঠিক সেই মুহুর্তে তার দলেরই মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে গত ৮ ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার) রাতে স্থানীয় যুবকরা মাদকসহ আসলাম শেখ (২৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে দিতে চাইলে ইছাপুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্লা ওই মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ ছাড়িয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ীর পরিবারকে উস্কানি দিয়ে স্থানীয় মিন্টু বেপারী (৩৫) ও মোঃ রনি (৩২)দের বিরুদ্ধে  সিরাজদিখান থানায় অভিযোগ দায়ের করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে জাহাঙ্গীর মোল্লা বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায়ী আসলাম শেখ উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের টেংগুরিয়াপাড়া গ্রামের শহিদ শেখের পুত্র। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রনি অফিস থেকে বাড়ী ফেরার পথে তারই আপন খালাত ভাই মিন্টু মুঠোফোনে রনিকে গৌরঙ্গ সরকারের কাঠ বাগানে মাদক ব্যবসায়ী আসলাম মাদক (গাজা) বিক্রি করছে বলে জানায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টু ও রনি সহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক ৯ পুড়িয়া গাজাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিতে চাইলে আসলাম তার মামা ইছাপুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্লাকে জানালে রাত পৌনে ১২টার দিকে ৯ পুড়িয়া গাজাসহ আসলামকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে মাদক ব্যবসায়ী আসলামের পরিবার স্থানীয় যুবক মিন্টু বেপারী ও মোঃ রনির বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।  

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী আসলাম বেশ কয়েকমাস যাবৎ মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কাউসার ও রাসেল মল্লিক তার ঘনিষ্ট বন্ধু। সম্প্রতি র‌্যাব-১১ এর একটি টিম শীর্ষ ওই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ৭০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ  গ্রেফতার করে সিরাজদিখান থানায় সোপর্দ করে। এ নিয়ে স্থানীয় মাদকবিরোধী যুবকদের মাঝে প্রকাশ্য ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 


স্থানীয় যুবসমাজের বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসলাম শেখ মাদক ব্যবসা সাথে জড়িত ও প্রতি রাতে সে মাদক সেবক করে। আসলামের বাড়ীর আশেপাশে মাদক কিনতে আসা লোকজন ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় বলেও জানান তারা। 


ভূক্তভোগী মিন্টু বেপারী বলেন, আমি ও রনিসহ আরো কয়েকজন ৮ তারিখ  রাত ১০টার দিকে আসলামকে আমরা গৌরঙ্গ সরকারের কাঠ বাগানে গাজা বিক্রিা সময় ৯ পোটলা গাজাসহ হাতে নাতে আটক করি। দু-একটা চর থাপ্পর দিয়ে তাকে পুলিশে দেয়ার কথা বললে আসলাম তার মামা জাহাঙ্গীর মোল্লাকে ফোন করে আসতে বলে। পরে জাহাঙ্গীর মোল্লা ৯ পোটলা গাজাসহ তার ভাগিনা আসলামকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বলে বিষয়টি আমি দেখছি তোমাদের কিছু করার প্রয়োজন নাই। আমরা তার সম্মানের দিক চিন্তা করে আসলামকে পুলিশে না দিয়ে তার হাতে তুলে দেই। পরে শুনি আসলামের পরিবার নাকি আমাদের নামে থানায় অভিযোগ করেছে। এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে গেলেই মামলা হামলার শিকার হতে হয়। তাই বলে কি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না? 


ইছাপুরা ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ হুমায়ুন হাওলাদার জানান, মিন্টু ও রনির সাথে আসলামের কোন পূর্ব শত্রুতা ছিল না।  বিষয়টি আমি শুনেছি এবং আসলামের পরিবারের সাথে আমি ওইদিন সারাদিন থানায় ছিলাম। স্থানীয়ভাবে বিচার শালিশ করার কথা ছিল। পরে আসলামের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। আমার জানা মতে সে মাদক ব্যবসা করে না। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নেতা মুঠোফোনে জানান, আসলে আমি আসলামকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনিনা। তবে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি আসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক সেবন করে ও ব্যবসায় জড়িত।  


টেংগুরিয়াপাড়া ফ্রেন্ড বহুমূখী সমবায় সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আতœকর্মী মোঃ ফরহাদ মল্লিক জানান, আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে মাদক বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বিগত দিনে আমি মিন্টু,রনিসহ যুবসমাজের বেশ কয়েকজন মাদক বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ভাবে আমাদের সকলের সোচ্চার হতে হবে। 


এ বিষয় ইছাপুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্লা জানান, ভূয়া পুলিশ সেজে আসলাম শেখকে আটকিয়ে রেখে ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। এ মর্মে সিরাজদিখান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 


সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, মাদকের বিষয়টি আমার জানা নেই। আসলাম শেখ থানায় জানিয়েছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রনি ও মিন্টু তাকে আটকিয়ে আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে নগদ ১০হাজার টাকা নেয়। যেহেতু মাদকের বিষয় রয়েছে তাই তদন্ত করে বিষয়টির আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।   

সর্বশেষ সংবাদ