বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ | | ১৮ শা'বান ১৪৪০
banner

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা যে চার মামলা!

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১২ পিএম

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা যে চার মামলা!

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গেল বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার পর মামলাটিতে জামিনে থাকা খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


এরপর আদালত থেকেই নাজিম উদ্দিন রোডে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি তার গৃহকর্মী ফাতেমাকে নিয়ে কারাগারেই রয়েছেন। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়ার কারাবাসের এক বছর পূর্ণ হয়েছে।


এদিকে কারাগারে থাকা অবস্থায় চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের আরেক মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেয় একই আদালত।


দণ্ড হওয়া দুই মামলা এবং কুমিল্লার নাশকতার দুই মামলায় জামিনে পেলেই তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তার নিম্ন আদালতে আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।


সৈয়দ জয়নুল আবেদিন মেজবাহ বলেন, খালেদা জিয়া সাংবিধানিক ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি দুই বারের প্রধানমন্ত্রী। এটা বাদ দিয়েও যদি আইনের ভাষায় বলি, একজন বয়স্ক ও অসুস্থতার কারণে তার জামিন পাওয়ার আইনগত অধিকার আছে। মূলত মামলা দিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার চিরতরে শেষ করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা আশা করি, অতি শিগগিরিই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন।


দণ্ডিত হওয়া দুইটি মামলার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় একই বছর ৩০ অক্টোবর আপিলে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার পক্ষে বর্তমানে আপিল বিভাগে আপিল বিচারাধীন আছে।


অন্যদিকে চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের দুর্নীতির মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে বর্তমানে আপিল বিচারাধীন আছে।


বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে নাইকো দুর্নীতির ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনের শুনানি চলমান পর্যায়ে বিচারাধীন। এছাড়া বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলা চার্জ গঠনের পর্যায়ে অন্য আসামিদের পক্ষে উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত আছে। ড্যান্ডি ডাইং মামলাটিও স্থগিত রয়েছে।


অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আরও কমপক্ষে ৩০টি মামলা রয়েছে।


মামলাগুলো ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে এসব মামলা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীরা ওসব মামলা করেছেন। তার মধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা।


ঢাকার মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা ও নাশকতার ১৩ মামলা। মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপিসহ ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বাসে আগুন, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ১০টি মামলায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। যার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি ও দারুস সালাম থানায় ৮টি মামলা। এছাড়া ঢাকার অপর মামলাগুলোর মধ্যে ভুয়া জম্নদিন পালন, ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য মানহানির মামলা এবং ২০১৫ সালে গুলশানে প্রাক্তন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে পেট্রলবোমা হামলার মামলা উল্লেখযোগ্য।


এদিকে এক বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য তাকে ৯ বার আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজিরার জন্য কারাগারের ভেতরে স্থাপিত আদালতে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর, ৮ নভেম্বর ও ১৪ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি, ১৩ জানুয়ারি, ২১ জানুয়ারি ও ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গত ২১ জানুয়ারি এবং গতকাল বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে হাজির করা হয়। এছাড়া তাকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয় দুইবার। এর মধ্যে ৭ এপ্রিল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। ৬ অক্টোবর তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ১ মাস ২ দিন পর তাকে ৮ নভেম্বর আবারও কারাগারে নেওয়া হয়। ওইদিনই তাকে নাইকো দুর্নীতির মামলায় হাজির করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ