সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ | | ১ রবিউস সানি ১৪৪০
banner

নির্বাচনে সেনাবাহিনী যেভাবে দায়িত্ব পালন করবে

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪১ এএম

নির্বাচনে সেনাবাহিনী যেভাবে দায়িত্ব পালন করবে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। তবে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কেএম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার এখনো অবশ্য নিশ্চিত করেননি যে, ঠিক কবে থেকে সেনা মোতায়েন করা হবে এবং তারা মাঠে কতদিন থাকবে। নির্বাচনের পরেও সেনাবাহিনী থাকবে কিনা আর তারা কিভাবে কাজ করবে, তারা কি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে, নাকি টহলের দায়িত্বেও থাকবে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। খবর ডয়েচে ভেলের।


তবে এর আগে তফসিল ঘোষণার সময় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় সেনা মোতায়েন করা হবে।


নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম শুক্রবার জানান, ‘সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে সব দায়িত্ব কমিশন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দিয়েছে। তিনিই দিনক্ষণ ঠিক করবেন ও যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। আর এ নিয়ে তিনিই আপডেট জানাবেন’।


বিএনপির প্রাধান্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। এর মানে হলো, সেনাবাহিনী নির্বাচনের জন্য স্বাধীনভাবে প্রয়োজনীয় টহল, আটকসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে সেনা মোতায়েনের যে কথা বলেছেন, তা তাদের দাবি পূরণ করে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার যা বলেছেন, তা হলো, সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প করে অবস্থান করবে। নির্বাচন কমিশন চাইলে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবে। তারা টহল দেবে না অথবা তাদের ম্যাজিষ্ট্রেসি পাওয়ারও দেয়া হচ্ছে না’।


তিনি দাবি করেন, ‘পোলিং, প্রিসাইডিং বা রিটার্নিং অফিসাররা যদি সেনা বাহিনীকে সহায়তার জন্য কোনো পরিস্থিতিতে ডাকেন, তবে তারা কাজ করবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনই তো তাদের দলীয় কমিশনে পরিণত হয়েছে। পোলিং, প্রিসাইডিং বা রিটার্নিং অফিসার তো তাদেরই লোক। তাহলে এই সেনা মোতায়েন করে কি কোনো কাজ হবে?’


বাংলাদেশের ফৌজদারী কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারা এবং ‘এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় সেনা বাহিনী সিভিল প্রশাসনকে তাদের চাহিদা মতো সহায়তা করতে পারে।


আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার যে বিধান, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বিএনপি যা চাইছে যে, সেনা বাহিনীকে ম্যাজিষ্ট্রেসি পাওয়ার দিতে হবে, তা সংবিধান বা আইনে নেই। এটা সংবিধান ও আইনবিরোধী। পৃথিবীর কোনো দেশে সেনা বাহিনীকে ম্যাজিষ্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হয় না। বিএনপি সব সময়ই সংবিধানবিরোধী অবস্থান নেয়। তারা সংবিধান মানতে চায় না’।


বাংলাদেশে ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন ছাড়া আর সব নির্বাচনেই সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেব নিয়োজিত ছিল। নির্বাচন কমিশনে কথা বলে জানা গেছে, এবারও সেনা বাহিনীর সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও মহানগরে সুবিধাজনক জায়গায় অবস্থান করবে। নির্বাচন কমিশন সহায়তা চাইলে তারা মুভ করবে।


সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিএনপি বা আরো কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল যেভাবে সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের সময় ম্যাজিষ্ট্রেসি পাওয়ার দেয়ার দাবি করছে, তা সংবিধান ও আইন সমর্থন করে না। তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা ক্যাম্পে বসে থাকলেও কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাদের যদি স্বাধীনভাবে টহলের ক্ষমতা দেয়া হয়, তাহলে সেটা অনেক কাজে দেবে। তাদের মুভমেন্টের কারণে অপরাধী ও সমাজবিরোধীরা ভয়ে থাকত’।


তিনি আরো বলেন, ‘সেনাবাহিনী কাজ করবে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী। এখন যদি পোলিং, প্রিসাইডিং বা রিটার্নিং অফিসাররা নিরপেক্ষ না হন, তাহলে কী হবে? তাদের নিরপেক্ষতার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে’।


এদিকে জাতীয় ঐক্যফন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে যখন সেনাবাহিনীকে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার দাবি জানিয়েছিল, তখন নির্বাচন কমিশন স্পষ্টই জানিয়ে দেয় যে, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।


নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কত সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে, একটি উপজেলা, জেলা বা মহানগরে কতজন থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।


সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সাভার সেনানিবাসে গত সপ্তাহের এক অনুষ্ঠানে বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পেলে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেই দায়ীত্ব পালন করবে। সেনাবাহিনী অতীতেও পেশাদারিত্বের সাথে এই দায়িত্ব পালন করেছে।


অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। তবে কবে থেকে সেনা মোতায়েন করা হবে এবং তারা মাঠে কতদিন থাকবে তা উল্লেখ করেনি নির্বাচন কমিশন।


প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন ছাড়া আর সব নির্বাচনেই সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল।

সর্বশেষ সংবাদ