মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০
banner

হুমকির মুখে প্রায় ৪ হাজার কৃষকের জমি

সিরাজদিখানে অবৈধভাবে সরকারী খাল খনন করে স্কুলের জমি ভরাটের অভিযোগ

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৫:৫৬ পিএম

সিরাজদিখানে অবৈধভাবে সরকারী খাল খনন করে স্কুলের জমি ভরাটের অভিযোগ

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে খাল খনন করে স্কুলের জমি ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের অভিযোগ অবৈধ ভাবে খাল খনন করায় কৃষি জমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এমনকি কৃষকরা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দুদুর জোরপূর্বক খাল খনন করার কোন অভিযোগ তুললে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, তালতলা-ডহুরী খালের সুবচনি আলেয়া কোল্ড স্টোরেজ থেকে লৌহজং শ্রীনগর হলদিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিঃ মিঃ পোড়াগঙ্গা খালটির ভবানিপুর ব্রীজ থেকে চাইনপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ কিঃ মিঃ খাল অবৈধ ভাবে খনন করে বালু উত্তোলন করার কারণে কৃষি জমির পাড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি খালটির অপর পাড়ে রাস্তাটির পাশ দিয়েও ভাঙন ধরেছে। এতে করে ওই এলাকার প্রায় ৪ হাজার কৃষক ক্ষতির সম্মূক্ষীন হয়ে পড়েছে। ব্যহত হচ্ছে কৃষি কাজও। 

কৃষকরা অনেকেই জৈনসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দুদুকে দায়ী করে বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে একটি স্কুলের জন্য এই খালটি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করে ভবানিপুর উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি স্কুলের জমি ভরাট করেছেন। গত দুইবছর আগে ওই খালটি সরকারী ভাবে খনন করা হলেও রফিকুল ইসলাম দুদু অবৈধভাবে খনন করেছেন যার কোন বৈধতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। 


সরেজমিনে সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের দুইজন সাংবাদিক ওই খালটির চিত্র তুলে ধরতে সেখানে গেলে জৈনসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়রাম্যান রফিকুল ইসলাম দুদু  জৈনসার ভবানিপুর বাজারের একটি ঔষধের দোকানে ডেকে নিয়ে তাদের বলেন, এটা একটি সামাজিক কাজ। আমাদের এখানে একটি হাই স্কুল নেই। একটি হাই স্কুল আমাদের এখানে দরকার। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এ্যাসিল্যান্ড স্যারদের সামনে রেখেই খালটি খনন করা হয়েছে। আপনারা কোন লেখালেখি কইরেন না।  

কৃষি জমির ক্ষতি হচ্ছে সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন রাখলে তিনি আরো বলেন, আমরা কৃষকদের অনুমতি নিয়েই খাল খনন করে বালু উত্তোলন করেছি। কোন সমস্যা নেই। কেউ কিছু বলবে না।


এব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ-সভাপতি জামান হাওলাদার (রতন) জানান, স্কুল নির্মাণ করা ভাল কাজ। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব খাল কেটে স্কুলের জমি ভরাট করবে এটা তিনি ঠিক করেননি। আমার বড় ভাইয়ের কাছেও স্কুলের দাতা সদস্য থাকার জন্য ২ লক্ষ টাকা চেয়েছেন। স্কুলের জন্য এমন আরো অনেক লোকের কাছে টাকা চেয়েছেন তিনি। তিনিতো আর কৃষকদের ক্ষতি করে স্কুল তৈরি করতে পারেন না। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, আমাদের জমিতে আমরা ধান ও আলু চাষ করি। পোড়াগঙ্গা খালটির পাশেই আমাদের ফসলি জমি। খালটি গভীর করে খনন করে বালু উত্তোলন করার কারণে আমাদের জমির একপাশে ভাঙন ধরেছে। চেয়ারম্যান সাহেব যদি বেশী গভীর করে বালু না তুলতো তাহলে হয়তো আমাদের জমি ভাঙতো না। শুধু  আমাদের জমিই না খালটির উপাড়ে রাস্তাটির পাড়ও ভাঙন ধরেছে। আমাদের সমস্যা কেউ দেখার নেই। আমরা কিছু বললেইতো হুমকি দেয় চেয়ারম্যানের লোকজন। এখন আমরা কার কাছে যাব। 

সিরাজদিখান সহকারী কমিশনার (ভ’মি) রিনাত ফৌজিয়া জানান, আমি আপনার নিকটই প্রথম শুনলাম । এ কাজের সত্যতা পাওয়া গেলে সে যেই হোক তার কিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব । সরকারী খালের মাটি কাটার অধিকার কারও নেই ।


সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানবীর মোহাম্মদ আজিম জানান, এ ব্যাপারে আমি অবগত নই । আপনার নিকটই প্রথম শুনলাম । কোন জনগণও আমাকে জানাননি । আমি আগামীকালই কালই সরেজমিনে পরিদর্শন করব । এ ব্যাপারে যে দোষী হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব ।

সর্বশেষ সংবাদ