মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ | | ২১ শাওয়াল ১৪৪০
banner

“কারো জান চলে যায় আর কেউ হরি হরি গাই”

মুক্ত কথা

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৮, ০৭:৪১ পিএম

মুক্ত কথা

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির বিবেক বলে পরিচিত। আর সংবাদপত্র দেশের আয়না বলেও জানি।  কিন্তু বর্তমানে সাংবাদিকদের মধ্যে দেশ নিয়ে ভাবার মত সাংবাদিক প্রায় ক্ষীণ। আর আয়নার রং ঘোলাটে হয়ে যাওয়ায় আর তার মধ্যে দিয়ে কোন প্রতিচ্ছবি এখন আর দেখতে পায় না। কারণ তারা (সাংবাদিক) তাদের বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছে। বিবেক হারিয়ে তারা পরিনত হয়েছে নির্লজ্জতায়। ছিঃ ছিঃ ভাবতেও অবাক লাগে, আমরা কিভাবে এত নীচুতে পৌছিয়ে গেলাম? একজন সহকর্মীর লাশ জানাযা ও কবর দেওয়ার আগেই  লাশের পাশের দাঁড়িয়েই কিভাবে তার কাগজটি নেয়া যায় আমরা সেই চিন্তাও করি। যে সহকর্মী মারা গেল তার পরিবারের কি হবে? কিভাবে তাদের সংসার চলবে? কিভাবে তাদের ছেলে মেয়ে মানুষ হবে? সে চিন্তা কি আমরা কেউ করছি? হয়ত কেউ করছি আবার হয়ত কেউ করছিও না। 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক ও সহকর্মী মিঠু শিকদার শনিবার (৩ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারী ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ি রোববার (৪ মার্চ) তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  সোমবার (৫ মার্চ) ভোর রাতে তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। 

তার লাশ কালীগঞ্জে পৌছানোর পর পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পাড়া-প্রতিবেশি, আতœীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্দব, শুভাকাঙ্খিরা শোকে বিহবল হয়ে পড়েন। গ্রামের কাগজের সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মবিনুল ইসলাম মবিন ভাইয়ের দু’চোখ বেয়ে শুধু অশ্রুই ঝরছিল। লাশের পাশে দাঁড়িয়ে সহকর্মী সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্খিরা যখন নীরবে কাঁদছিলেন ঠিক সেই মুুহুর্তে আমরা কেউ তার (মিঠু শিকদারের) পত্রিকাটি নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ১৯ বছরের বন্ধন ছেঁদ করে না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় পত্রিকার সম্পাদক যখন হাউমাউ করে কাঁদছিলেন ঠিক সেই মুহুর্তে আমরা সম্পাদক সাহেবের কাছে আব্দার নিয়ে যেয়ে বলি “মিঠু শিকদার তো মরে গেছে, কাগজটি আমাকে দেন”। একথা শুনে উপস্থিত কোন কোন সাংবাদিক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। কেউ রাগান্বিত হয়ে যান। আর কেউ বলেন, ইনি কি সাংবাদিক নাকি তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছে? পাশে থাকা একজন বলেই ফেলেন, কারো জান প্রাণ চলে যায়, আর কেউ হরি হরি গাই।

যে সাংবাদিকের লাশের জানাযা তখনও হয়নি। দেয়া হয়নি তার কবর ঠিক সেই মুহুর্তে সাংবাদিক মিঠু শিকদারের পত্রিকাটি চাওয়ার  বিষয়টি কতটুকু যুক্তিযুক্ত এ প্রশ্ন সচেতন পাঠকের কাছে?

সর্বশেষ সংবাদ