মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০
banner

ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে মাছ ধরার ধুম

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৮ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে মাছ ধরার ধুম

 ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:  ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে মাছ ধরার ধুম। ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীর বুড়ির বাঁধ এলাকায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মাছ ধরার ধুম পড়েছে। রবিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়ির বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় মাছ ধরতে আসে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার গ্রামের সহস্রাধিক উৎসুক সাধারণ মানুষ।

 সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ধরার জন্য  ঠাকুরগাঁও জেলা সহ পার্শবর্তী জেলা ও গ্রামের শত শত মানুষ ব্যস্ত মাছ ধরায়। মাছ ধরায় রয়েছেন নানা বয়সী নারী, পুরুষ, শিশুসহ বৃদ্ধরাও। যার যার জাল, পলো, খোচা ও লাফিজাল নিয়ে নেমে পড়েছেন। এছাড়া যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম নেই তারাও মাছ ধরতে নেমে গেছেন কাঁদার মধ্যে। সব মিলিয়ে এখানে এক ধরনের মাছ ধরার উৎসব দেখা যায়। 

উল্লেখ্য অনেকেই এখানে রাত্রি যাপন করে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এ ব্যাপারে কথা হয় আকচা ইউনিয়ন বাসী আঃ কাইয়ুম  এর সঙ্গে তিনি জানান, বর্ষাকালে পানি ধরে রাখার পর কার্তিক মাসের প্রথম দিকে বুড়ির বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে উজানের পানি কমে যায়। আর এ সুযোগে মাছ ধরতে আসে পাশের জেলা সহ গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। ভোর থেকে শুরু হওয়া এ মাছ ধরা চলে। ঠাকুরগাঁও শহর থেকে মাছ ধরতে আসা আবু আখতার জানান মাছ ধরতে ভোরে এসেছি। শখের বশে মাছ ধরছি। যা পাব তাতেই আনন্দ। 

তার মতো বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাছ ধরতে আসা সামিউল, আইনুল, বাহাদুর, সারোয়ার,বিপ্লব,সোহেল আরো জানায়, এখানে মাছের মধ্যে রয়েছে- ট্যাংরা, পুঁটি, শিং, তেলাপিয়া, কৈ, মাগুর ও সোল, বোয়াল রুই, কাতল, ইত্যাদি। দেশি প্রজাতের মাছ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, এখানে পুঁটি মাছ ১০০' থেকে ১৫০' টাকা আর গছিপোয়া মাছ ৩শ' টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে তাছাড়া বড় মাছগুলো দাম ও কিছুটা কম। তিনি আরো জানান অন্যান্য মাছের তুলনায় নদীর মাছের স্বাদই আলাদা।

উল্লেখ্য যে, ১৯৮২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষিজমির সেচসুবিধার জন্য সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের সীমানার শুক নদে বুড়ির বাঁধ এলাকায় একটি জলকপাট নির্মাণ করা হয়। জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে। আর এ পোনাগুলো যাতে কেউ ধরতে না পারে তা দেখভাল করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। এরপর বছরের একটি দিনে এ মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরার উৎসব চলছে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা আরও বলেন, এ জলকপাট এখন খোলা থাকবে। আরও বেশ কিছুদিন এখানে মাছ পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রথম দিনেই বেশি ভিড় হয়।

সর্বশেষ সংবাদ