১৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার

আশাশুনিতে ইউপি সদস্যের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বহু অসহায় পরিবার

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের ০৯ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার বহু অসহায় পরিবার। একসনা ডিসিয়ার দেওয়ার নামে ২৪ হাজার টাকা নিয়ে বহু দিন অতিবাহিত হওয়ার পরে টাকা ফেরত না দিয়ে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় অসহায় পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকীর অভিযোগ সহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বন্দোবস্ত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়ায় আলমগীর ও তার পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান।
জানাগেছে, উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা গ্রামের মজিদ সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে ডুমুরিয়া মৌজার ০১ নং খাস খতিয়ানের ৮৮ দাগে ৪৫ শতক জমি ১৫-১৬ ও ১৭-১৮ অর্থ বছরের বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে ২৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বুধহাটা ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মতিয়ার রহমান। ভূক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে বলেন, বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার পর বন্দোবস্ত পেয়ে কিছু দিন পরে সেখানে অন্য এক জনকে বসিয়ে তার কাছ থেকেও বড় অংকের টাকা নিয়েছে ঐ মেম্বর। পরবর্তিতে টাকা ফেরত চাওয়ায় ইউপি সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার ও মামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গত সোমবার ভূক্তভোগী আলমগীর মটর সাইকেল যোগে শ্বেতপুর মোড়ে পৌছালে ওখানে অবস্থানরত ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমানের কাছে টাকা চাইলে সে আমাকে লাঞ্চিত করেন। এর আগে ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমানের নির্দেশে চুমুরিয়া গ্রামের গফুর গাজীর ছেলে সাইদুল গাজী, রহিম গাজীর ছেলে বাবুল গাজী, মোসেল সরদারের ছেলে ইয়াকুব আলী শেখ, হচেন মোড়লের ছেলে ক্যাপ্টেন মোড়ল ও কাসেম মোড়লের ছেলে কামরুল মোড়লসহ আরও কয়েকজন আমার ঘরবাড়ী ভাংচুর, মারপিট, পুকুরের মাছ লুট করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই ইউনিয়নের অন্য একজন ইউপি সদস্য জানান, আলমগীর যে মতিয়ার মেম্বরের কাছে ডিসিয়ার নেওয়ার জন্য ২৪ হাজার টাকা দিয়েছিলো সেটা সত্য। মতিয়ার মেম্বর শুধু ডিসিয়ারের নামে নয় ঘর দেওয়ার নাম করে, কার্ড দেওয়ার নাম করে, ট্যাংকি দেওয়ার নাম করে বহু অসহায় পরিবারের থেকে টাকা নিয়েছে। ইউনিয়নের একাধিক মহলের বক্তব্য মতিয়ার মেম্বর জাল ডলার বা প্রতারক চক্রের উপজেলার মূল হোতা। বছর খানেক পূর্বে টাকার বিনিময়ে রেশন কার্ড দেওয়ার কারনে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের করনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে কার্ড বিতরনে অনিয়মের প্রমান মিললে অভিযুক্ত কার্ড গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া নৈকাটি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মরিচ্চাপ নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার পাশের বহু সরকারি রাস্তার গাছ কেটে আত্মসাত করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

মতামত