১৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার

বিজিবি স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি উপজেলার কুল্যা গ্রামের অসহায় পিতার একমাত্র কন্যা বিয়ের বছর না পুরতেই সৈনিক স্বামীর নির্যাতনে অসহায় হয়ে পড়েছে স্ত্রী রেখা খাতুন। নির্মমভাবে পিটিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে স্বামী তাকে পিত্রালয়ে রেখে কেটে পড়েছেন। কুল্যা গ্রামের ওছির উদ্দিন সাহাজীর কন্যা রেখা খাতুনের সাথে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে বিয়ে হয় সাতক্ষীরা সদরের দেবনগর গ্রামের রাহাজ উদ্দিন সরদারের পুত্র আরিফ রায়হান। রায়হান বিজিবি সিপাহী হিসাবে ঢাকা পিলখানায় কর্মরত। তার পরিচয়পত্র নং- ৪৪৮৩৮২০০, ব্যক্তিগত নং- ১০২৬০৬।

তিনি বিয়ের আগে শশুরের কাছ থেকে চাকরীর জন্য নগদ ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। চাকরী পাওয়ার পর বিয়ের সময় স্বর্ণালঙ্কার, ফ্রিজ ও অন্য আসবাবপত্র নিয়েছিলেন। বিয়ের পর থেকে তিনি স্ত্রীর উপর নানাভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন চালাতে থাকেন। তখন রেখা ও তার মা-বাবা পিলখানায় নিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে সিও তানভীর সাহেব ও জাকির সাহেবের কাছে মৌখিকভাবে ১০/০৪/১৯ ও ২৭/০৬/১৯ তাং অভিযোগ করেন। কর্মকর্তাবৃন্দ উভয় পক্ষকে নিয়ে আপোষ মিমাংসা করে রেখাকে স্বামীর কাছে দিয়েছিলেন। কিন্তু না তার পরও তার উপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। রেখা বলেন, তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদ করলে তার উপর নির্যাতন নেমে আসে। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে স্বামীর ঘর করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু তার পরও সে স্বামী ভাল হবে ধারনা করে অত্যাচার সহ্য করে স্বামীর ঘর করে আসছিল। কিন্তু পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার স্বামী আরিফ আরো ক্ষিপ্ত হতে থাকে। এক পর্যায়ে উল্টো স্বামী আরিফ স্ত্রীর বিরুদ্ধে কুল্যার মেম্বার, চেয়ারম্যানদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন। তখন চেয়ারম্যান ও মেম্বার আপোষ মীমাংসা করে তাদেরকে একসাথে পাঠিয়ে দেন। স্বামী ভালমুখে তাকে নিয়ে গেলেও বাড়িতে নিয়ে আবারও নির্যাতন শুরু করেন। গত ৯ আগষ্ট স্বামী তাকে নির্মমভাবে মারপিট করে। অবস্থা মারাত্মক হলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এক্স-১৯ নং কেবিনে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরপর তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে শশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে নামিয়ে দিয়ে কেটে পড়ে। অসহায় পিতা সৈনিক জামাইয়ের বিরুদ্ধে কিছু করার সাহস পাচ্ছেনা। এব্যাপারে বিজিবির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

মতামত