১৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার

পরকিয়ায় আশক্ত, স্বামীকে ফেরাতে চায় “সেনাবাহিনী কমিশন্ড অফিসার” স্ত্রী

মো: জাহিদ আলী: পাবনা জেলার চাটমোহর আফরাত পাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে “আবীর হাসান” সুন্দরী স্ত্রী থাকতেও পরকিয়ায় আশক্ত মর্মে অভিযোগ উঠছে। আবীর হাসান বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অধীনে ক্যাপ্টেন হিসাবে প্যারিসে কর্মরত আছেন। আবীরের স্ত্রী রাজশাহী সেনানিবাসে কর্মরত কমিশন্ড অফিসার মেহেজাবীন সুমি অভিযোগ করে বলেন- তার স্বামীর সাথে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমীর ডাইরেক্ট এন্টি অফিসার একাডেমীতে ২০১২ সালের প্রথম দিকে দুইজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেহেজাবীন সাভারের নবীনগর জনকুরগাঁও নতুনপাড়ার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ।

দীর্ঘ চার বছর সম্পর্কের পর ২০ শে জুলাই ২০১৫ সালে উভয় পরিবার কে না জানিয়েই ঢাকা মিরপুরের একটি কাজী অফিসে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যা, স্ত্রী সুমি স্বামী আবীরের কাছে অশান্তি বা পারিবারিক সদস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে, আবীর তা বরাবরই এড়িয়ে যান, এবং স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি বাধ্য নয় সেটা সুমিকে বুঝিয়ে দেন। অক্টোবর মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য দেশের বাহিরে চলে যেতে হয় আবীর কে, বিদেশ গমনের পর থেকে স্ত্রী সুমির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ক্যাপ্টেন আবীর হাসান।

এ বিষয়ে মেহেজাবীন সুমি আরও বলেন, আমার মা-বাবা আমাদের বিয়ের বিষয়টা জানার পরে মেনে নেয় এবং আমার শশুড়/শাশুড়ীও মেনে নেন কিন্তু আবীর জানিয়ে দেয় আমাকে তার আর কোন প্রয়োজন নেই। আবীরের খালাতো ভাইয়ের কাছে জানতে পারি সে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে পরোকিয়ায় আশক্ত হয়ে পড়েছে। মেয়েটির বাড়ী বরিশাল , শুনেছি সেও নাকি বিদেশে আবীরের সাথে থাকে। পারিবারিক সূত্রে এটাও জানতে পারি আবীর তার মা/বাবার কথামত এগুলো করছে।

সুমী আরও বলেন- আমি প্রতিমাসে আমার শশুড়/শাশুড়ীকে দেখতে যেতাম, তাদের মন যোগানোর চেষ্টা করতাম, স্থানীয় ব্যাক্তিত্ব দিয়ে আমার শশুড়/শাশুড়ীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আমার ডিপার্টমেন্ট এর কর্মকর্তা কে দিয়েও কথা বলিয়েছি, কিন্তুু তাতে কোনো লাভ হয়নি বিনিময়ে পেয়েছি ধিক্কার, তিরস্কার আর লাঞ্চনা। আমার শশুড়/শাশুড়ী দুজনেই বলেছেন এমন বউ আমরা চাইনা, যত টাকা খরচ হোক এই বৌকে বিদায় করতে হবে। এই বৌকে কখোনই মেনে নিতে পারবোনা। আমি সবকিছু চিন্তা করে দেখলাম আমি একজন আইনের মানুষ এবং আইনকে আমি শ্রদ্ধা করি, তাই আইনের আশ্রয় নেয়াই আমার উত্তম হবে।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে ক্যাপ্টেন আবীর হাসান কে মুঠো ফোনে (০১৩০৮০৮৪৮৬৫) জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার মেহেজাবীন সুমির সাথে আমার দীর্ঘ চার (০৪) বছর ভালোবাসার পরে ২০ জুলাই ২০১৫ সালে পরিবারের অনুমতি ছাড়াই ঢাকা মিরপুরের একটি কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। এর পর আমি অক্টোবর মাসে পেশাগত দায়িত্বে বিদেশ চলে যাই। কিন্তু পরকিয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমার মা-বাবা আমাদের বিয়ের বিষয়টি মেনে না নেওয়াতে আমি সুমির কাছ থেকে অনেক দুরে সরে গেছি। আমার মা-বাবার কথা- বৌকে নিয়ে থাকলে আমাদের ছাড়তে হবে । জন্মদাতা মা-বাবাকে ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এতে আমার চাকরী চলে গেলেও কোন অসুবিধা নেই।

তবে আমি আমার স্ত্রী সেনাবাহিনী কমিশন্ড অফিসার মেহেজাবীন সুমি কে আমি এখনো ভালোবাসী, যদি আমার বাবা- মা সুমিকে মেনে নেয় তবে আমার কোন সমস্যা নাই। কারন সুমির কোন দোষ নেই, সে একটি ভালো মেয়ে।

মতামত