১৫, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার

মা,বাবার আস্থা ভালোবাসা অর্জন করে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা উচিত

আমাদের প্রত্যেকেরই পারিবারিক প্রভাব আমাদের হৃদয়কে দারুনভাবে স্পর্শ করে।সুন্দর জীবনের অন্যতম শর্ত হলো পরিবারের সকলের সাথে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক।পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পারস্পরিক সম্পর্ক যদি চমৎকার ও আন্তরিক হয়, তাহলে আমরা প্রত্যকেই জীবনের নানা সমস্যা-সংকট এড়িয়ে সুখী ও সুন্দর ভাবে বসবাস করতে পারি।আনন্দ-বেদনাগুলো নিঃস্বার্থভাবে পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগ করার মাঝেই সুখ নিহিত।আগে পরিবারে একজন থাকতেন বটবৃক্ষের ছায়ার মতো। সুখে-দুঃখে,আনন্দ-বেদনায় তিনিই সবাইকে মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ রাখতেন।

এখন তেমন দেখা যায়না।বর্তমানে প্রত্যকের পরিবারেই নানামূখী সংকট রয়েছে। এর জন্য পারিবারিক সম্পর্কটাই অনেকটাই দায়ী বলে আমি মনে করি।আমাদের প্রত্যকের পরিবারেই হিংসা, বিদ্বেষ আর পরস্পরের বিদ্বেষপূর্ণ ঘটনা রয়েছে। পারিবারিক জীবনে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ভালোবাসা,আর আস্থার বদলে অবিশ্বাস সন্দেহ, প্রতিহিংসা আর লোভ জায়গা করে নিচ্ছে।

যে কারো পরিবারেই মা,বাবা হল ওই পরিবারের অন্যতম অভিবাবক।মা বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক হৃদয়স্পর্শী,মা বাবার কারণেই সুশীতল ধরণীতে আমাদের সবার আগমন।মা,বাবার স্নেহময়ী হাসি মন উজার করা অকৃত্তিম নিঃস্বার্থ, নিখাদ ও স্বার্থহীন, ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের জীবনে বয়ে আনে অনাবিল সুখের প্রশান্তি। বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসায় থাকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আর এর মাধ্যমেই গড়ে ওঠে সন্তান ও বাবা-মায়ের একটি মধুর সম্পর্ক।মা-বাবা বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের কাছে কিছু চাননা।তাঁরা চান সন্তানের কাছে একটু আদর, পরম মমতা ও ভালোবাসা। আমরা কর্মব্যস্ততার মাঝে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিজেকে সুখের সাগরে বিলিয়ে দিলেও পরম শ্রদ্ধেয় মা,বাবার ভালোবাসা আর আস্থা আমরা অর্জন করতে পারছিনা। অনেক ক্ষেত্রে আমরা মা,বাবার ভরণপোষন

চিকিৎসা,পোষাক পরিচ্ছেদ সহ যাবতীয় খরচ বহন করলেও মা,বাবার আস্থা অর্জনে কেমন জানি আমাদের প্রচন্ড অভাব রয়েছে।এর কারণ কি? আমি লক্ষ্য করেছি,অনেক পরিবারে একাধিক সন্তান থাকলেও মা,বাবা তাঁর প্রতিটি সন্তানকেই সমান চোখে দেখেন।তম্মধ্য একজনকে কেমন জানি আলাদা দৃষ্টিতে দেখে,তাঁকে একটু বেশি আদর করেন। আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করে উপলব্ধি করে দেখলাম,তাঁর ওই সন্তানটি মা,বাবার কাঙ্খিত সেবা ও চাহিদার পূর্বেই তা পূরণে তটস্থ থাকেন’। কিছু প্রয়োজন হওয়ার পূর্বেই তা নিয়ে হাজির হন। মা,বাবা ঠিক মত ঘুমিয়েছেন কিনা,ওষুধ সেবন করেছে কিনা,খাবার খেয়েছে কিনা লক্ষ্য রাখা,প্রবাসে থাকলেও তাদের সাথে প্রতিদিন কথা বলা,পোষাক পরিচ্ছেদ আছে কিনা দেখা, মা,বাবার সাথে একটু সময় কাটানো,খোশ গল্পে মেতে ওঠা,মার্জিত নম্র ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁদের হৃদয় জয় করেন। আর এসবের মাধ্যমেই আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন ওই সন্তান। মা,বাবার নিকটে ওই সন্তান না থাকলে তাঁরা হা,হুতাশ শুরু করে দেন,ঘুমাতে পারেন না,তাঁর ওই সন্তান বাসায় না ফেরা পর্যন্ত উদগ্রীব থাকেন।ঐ সন্তান যখন কাছে থাকেন তাঁদের মনোবল চাঙ্গা থাকে, নতুন করে কেমন জানি তাঁরা উজ্জিবীত হন,সাহস,শক্তি পান।

আমি আমার পরিবারের সদস্যদের আস্থা,ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি কিনা জানিনা, তবে আমি আমার পরিবারেই সেটার প্রমাণ পেয়েছি। দীর্ঘ বছর আমার বাবা মারা গিয়েছেন। মা রয়েছে,ছোট ভাইরা রয়েছে।বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই বহু প্রতিকূলতার মাঝেও আমি আমার পরিবারকে আগলে রেখেছি‌। আমার ছোট ভাইরা আল্লাহর মেহের বাণীতে স্ব-স্ব কর্মে নিয়োজিত৷ আমার পরিবারের সবাই আমাকে আলাদা মর্যাদার চোখেই দেখেন। আমার শ্বশুরের পরিবারেও আমার শশুর, শাশুরী রয়েছেন। আমার স্ত্রীর ছোট বোনেরা রয়েছেন। ওই পরিবার টিতেও আমাকে কাছে পেলে মনে হয় তাঁরা নতুন করে মনোবল পান।

আমি আমার লেখায় মা,বাবার উদাহারণ এনেছি,কিন্তু একটি পরিবারে মা,বাবা, ভাই,বোন ভাইয়ের স্ত্রী,সন্তান রয়েছে।বিয়ের পর সবাই আলাদা করে ঘর সংসার শুরু করে। কিন্তু প্রথমে মা, বাবার সান্নিধ্য থেকেই তো আমাদের পারিবারিক জীবনের সূচনা শুরু।সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার জলেই আমাদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই সম্পৃক্ত।পরিবার মানেই ভালোবাসার অটুট বন্ধন।সবাই চায় পরিবারটা যেন হয় সুখের সমুদ্র। পরিবার হবে এমন এক মরূদ্যান, যেখানে এক পশলা বৃষ্টির মধ্য সবাই খুঁজে পাবে অপার সুখের সন্ধান। আধুনিক এ তথ্য প্রযুক্তির যুগের বাস্তবতায় এখন অধিকাংশ পরিবারই নানা সংকটের মোকাবেলা করছে।আমরা প্রত্যকেই যদি পরস্পরের প্রতি লক্ষ্য করে আস্থা,বিশ্বাস ও ভালোবাসার জায়গাতে নিজেদের নিয়ে যেতে পারি তাহলে মনে হয় শুধু একটি পরিবারই সুন্দর হবেনা,সুন্দর হবে একটি সমাজ।কারণ ওই পরিবার হতেই তো সমাজের উৎপত্তি।এর জন্য আমাদের ত্যাগের মহিমায় উদ্বুব্ধ হতে হবে। সবসময়ই পরিবারের সদস্যদের জন্য ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে,হিংসা,ক্রোধ,প্রতিহিংসার কথা ভুলে যেতে হবে। একে অপরের প্রয়োজনে, চাহিদা,আকাঙ্খার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।সুখ,দুঃখকে নিজের মত করে ভাগ করতে হবে।পরিবারের সবাইকে একে অপরের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষমূলক মনোভাব,
লোভ,প্রতিহিংসা ছেড়ে ভালোবাসা আর আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। আমি সহ প্রত্যকের পরিবারে আসুক সুখের প্রশান্তি মহান আল্লাহর নিকট এই প্রার্থনা করে সবার সুখী সুন্দর জীবন কামনা করছি।আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন। আমীন।

নকীব তালুকদার
ভিয়েনা,অস্ট্রিয়া(প্রবাসী)

মতামত