২১, অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার

বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে পুলিশ বাহিনীকে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।সেইসঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডমিতে ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমি আশা করি আপনাদের প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রূপক-২০২১’ এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সােনার বাংলা বিনির্মাণে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকবেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামে পুলিশের গৌরবােজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশ পুলিশকে স্বাধীনতা পদক ২০১১’ এ ভূষিত করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পুলিশের নবীন কর্মকর্তারাও তাদের পূর্বসূরীদের ন্যায় দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব ও অসীম সাহসিকতার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মত অশুভ সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এসব অপকর্ম নির্মূলে এবং সমসাময়িক সব চ্যালেঞ্জ মােকাবিলায় সবাইকে সবসময় সচেষ্ট থাকতে হবে। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অব্যাহত সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এদেশের মাটিতে কোনভাবেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না।

এ সময় প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময় স্বার্থান্বেষী মহল যেভাবে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তার ব্যাপারে সব সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সুসজ্জিত খােলা জিপে চড়ে বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন এবং সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

পরে একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩৬তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে ট্রফি বিতরণ করেন। পরে তিনি নবীন এই পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণ হলেন- ‘বেস্ট শ্যুটার’ খায়রুল কবির, ‘বেস্ট ফিল্ড পারফমার’ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’ সালাহউদ্দিন, ‘বেস্ট একাডেমিক’ সাইফুল ইসলাম খান এবং বেস্ট প্রবেশনার সালাহ্ উদ্দিন। প্যারেডে ১৭ জন নারী অফিসারসহ ১১৭ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার রাজশাহীর সারদায় পৌঁছান। সকাল সাড়ে ১০টায় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে সারদায় থাকা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে বেলা ১১টায় মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী এবং ৩৬তম বিসিএস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপণী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

মতামত