১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার

ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে কিনা এবং হ্যাকারের নিকট থেকে রক্ষা পাবার উপায়  

মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন

ইদানীংকালে ফেসবুক হ্যাক হওয়া নতুন কোন বিষয় নয় বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রাকে যেমনি সামনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে তেমনি কিছু বিপদগ্রস্ত ও  করছে।  আমাদের দেশের মন্ত্রী, এমপি,আমলা, রাজনৈতিক থেকে শুরু করে যে কারো ফেসবুক অনায়াসেই  হ্যাকড  হচ্ছে ।

আপনার ফেসবুক হ্যাকড হলে সর্বপ্রথমে দেখতে পাবেন আপনার খুব কাছের লোকজনের নিকট টাকা হাওলাত চাচ্ছে । সাধারণভাবে কোন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তখন বুঝবেন আপনার ফেসবুকটি হ্যাকড হয়েছে।

এছাড়াও যদি মনে হয় যে আপনার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে কিংবা ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান তাহলে ফেসবুকের সেটিংস সেকশনে যান। এরপর ‘সিকিউরিটি ও লগইন’ ট্যাবে ক্লিক  করুন। এটা আপনাকে জানাবে কোথায় এবং কোন ডিভাইস থেকে আপনার ফেসবুকে প্রবেশ করা হয়েছে। যদি স্থান ও ডিভাইস আপনি শনাক্ত করতে না পারেন কিংবা আপনার সন্দেহ হয় তাহলে ‘নট ইউ’ বাটন ক্লিক করুন।

আপনার অ্যাকাউন্টে আপনি নিজে লেখেননি এমন কিছু পোস্ট করা হচ্ছে কী না লক্ষ্য রাখুন। আপনার কাছে আসা এবং আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য কারও কাছে যাওয়া ফ্রেন্ড রিকুয়েস্টের বিষয়েও সতর্ক থাকুন। আপনার সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য ও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন হয়ে যাওয়াটাও হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার লক্ষণ।

জেনে নিনকিভাবে আপনার ফেসবুক হ্যাকারের নিকট থেকে রক্ষা করবেন???

আপনার ফেসবুক কি রক্ষা করতে হলে সর্ব প্রথমে আপনাকে সচেতন হতে হবে এবং কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। কেউ চায়না তার ফেসবুক কি হ্যাক হোক কেননা একটি ফেসবুক হ্যাক হলে সেখানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে এবং অনেক গোপনীয় তথ্য থাকে অনায়াসেই সে তথ্য গুলি চলে যায় সেখান থেকে হ্যাকার বিভিন্নভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীকে নাজেহাল করতে শুরু করে।

ফেসবুককে হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে অবশ্য করণীয় হল নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং পাসওয়ার্ড অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে।

সর্বপ্রথমে আপনার ফেসবুকের Two Step Verification সার্ভিসটি চালু করুন

 কিভাবে Two Step Verification অপশন চালু করবেন???

ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ডান দিকে উপরে নিচের দিকে একটা এরো  চিহ্ন আছে সেখানে ক্লিক করুন। তারপর সেটিংস অপশন যান । তারপর Security and Login অপশনে যান সেখানে একবারে নিচের দিকে Two Step Verification অপশনে গিয়ে ক্লিক করুন  এবং অন করুন । সেখানে একটি ইমেইল  দিতে হবে এবং একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে ।

এটা সেট করলে যদি কেউ আপনার ফেসবুকে ঢুকতে চায় তখন আপনার ইমেইলে এবং মোবাইলে সাথে সাথে  ফেসবুক থেকেএকটি কোড চলে আসবে এবং তখনই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ফেসবুক কি কেউ হ্যাকড করার চেষ্টা করছে ।

এজন্য আপনাকে আপনার মোবাইল এবং মেইলটি নিজের কব্জায় রাখতে হবে । এ দুটি আপনার নিজের কব্জায় থাকলে আপনার ফেসবুক কেউ হ্যাক করতে পারবে না । এছাড়াও এখানে একটি অপশন আছে যে অন্য কোন মোবাইলে বা ল্যাপটপে বা কম্পিউটারে আপনি  আপনার ফেসবুকে ঢুকতে চাইলে এক্সেস কোড চান কিনা তখন আপনি লিখবেন অবশ্যই অ্যাক্সেস কোড চাই । এতে ও আপনি আপনার নির্দিষ্ট মোবাইলে বা ল্যাপটপে বা কম্পিউটার  ছাড়া অন্য কোথাও ঢুকতে চাইলে আপনাকেও আগের মত ফেসবুক থেকে দেওয়া কোডটি ব্যবহার করতে হবে।

 

তাই আমি মনে করি শুধুমাত্র Two Step Verification অপশনটি সঠিকভাবে চালু করলেই ফেসবুক হ্যাক হওয়া থেকে আপনি বেঁচে যাবেন ।

তারপরও যারা একটু কম্পিউটার ভালো বুঝেন তাদের জন্য ফেসবুক ব্যবহারে কিছু সিকিউরিটি টিপস আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল :

. পাসওয়ার্ড রক্ষা করতে হবে : কখনো পাসওয়ার্ড কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এমন পাসওয়ার্ড সিলেক্ট করুন যা অনুমান করা কঠিন। কখনোই নিজের নাম বা সাধারণ শব্দ পাসওয়ার্ড এ ব্যবহার করা উচিত না। ফেসবুক পাসওয়ার্ডটি শুধু মাত্র ফেসবুকের জন্য ব্যবহার করা উচিত। অন্য কোনো সিকিউরিটির ক্ষেত্রে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে তা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

২. অন্য কেউ যেন আপনার ফেসবুক একাউন্টে লগ ইন করতে না পারে তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তা (Login Approvals) ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য ফেসবুকের Two step Verification পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

৩. ই-মেল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে হবে।

৪. ব্যবহার শেষে ফেসবুক একাউন্ট থেকে অবশ্যই লগ আউট করতে হবে।

৫. নিউজ ফিডে অথবা মেসেঞ্জারে সন্দেহজনক কোনো লিঙ্ক দেখলে সঙ্গে সঙ্গে রিমুভ করে দিতে হবে। কনফার্ম না হয়ে যেকোনো গেম, অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যদের পাঠানো কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা উচিত না।

৬. ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিকল্প ই-মেল আইডি অ্যাড করুন। যদি আপনার প্রোফাইল কোনো কারণে হ্যাকও হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ফেসবুক আপনার দ্বিতীয় ই-মেলে আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য তথ্য পাঠাবে।

৭. অপরিচিত কারোর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার আগে তার প্রোফাইল চেক করে নিতে হবে।

৮. একেবারে ব্যক্তিগত কোনো ছবি, তথ্য (ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেল এড্রেস ইত্যাদি) ফেসবুকে শেয়ার করা উচিত না।

৯. আপনার পোস্ট কারা দেখতে পারবে তা সতর্কভাবে নির্বাচন করতে হবে।

১০. পাবলিক কম্পিউটারে (সাইবার ক্যাফে, ল্যাব ইত্যাদি) ফেসবুক ব্যবহার না করাই ভালো। তবে ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারের পর লগ ইন হিস্টরি ডিলিট করে দিতে হবে।

ভুক্তভোগীর করণীয় :

. ফেসবুক হ্যাকের মাধ্যমে হয়রানি কিংবা বিড়ম্বনার শিকার হলে থানায় অভিযোগ জানান।

. পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করুন।

 

মতামত