২১, অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার

গণতন্ত্র ও উন্নয়ণ একসাথে না গেলে জনগণ পিষ্ট হয়ে যাবে : বাংলাদেশ ন্যাপ

মারুফ সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি : গণতন্ত্র ও সুশাসন থাকলেই উন্নয়ন স্থায়ী হয় মন্তব্য করে করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন হলে সেটা টেকসই হতে পারেনা। দেশে এখন গণতন্ত্র চাপে পড়েছে, গণতন্ত্র বিহীন উন্নয়ন জনগনকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। গণতন্ত্র ও উন্নয়ণ একসাথে না গেলে জনগণ পিষ্ট হয়ে যাবে।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বৃৃতিতে নেতৃদ্বয় এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, কার্যকর গণতন্ত্র কেবল জনপ্রতিনিধিত্ব ও ভোটাধিকারের প্রয়োগ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জননিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা, সর্বোপরি গণতন্ত্র চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য গড়ে তোলাকে বুঝতে হবে। এই কালগুলোর অনুপস্থিতি যে সমাজে পরিলক্ষিত হয় সে সমাজকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। এ বিচারে বাংলাদেশে এখনো জননিরাপত্তা, বিচার পাবার অধিকার, মত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সম্পদের ক্ষেত্রে বৈষম্য, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এর কোন বিকল্প নেই। তাই রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সে অনুযায়ী যথাযথ আইনি সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। কেবল ভোটাধিকারের প্রয়োগ ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই গণতন্ত্রকে সীমিত না করে সর্বস্তরে সাম্য, স্বাধীনতা ও ন্যায় বিচারের মতাদর্শ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য গড়ে তুলতে হবে।

তারা বলেন, উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র শতভাগ জরুরী। বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে থাকতে রাজী আছে কিছু গণতন্ত্রকে ছেড়ে দিতে রাজী নয়।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দেশে গণতন্ত্রেে যে অবস্থা চলছে তাতে ভবিষ্যত নিয়ে সমগ্র জাতিই উদ্বিগ্ন। জনসাধারণের ভয়টা হচ্ছে, ক্ষমতার প্রতিযোগি দলগুলোর অসহিষ্ণুতা। ক্ষমতাসীন দল যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়। আর অন্যরা ক্ষমতায় যেতে গণতন্ত্রকে ব্যবহার করে যে কোন অপশক্তির সাথে ঐক্য করতেও কুন্ঠিত হয় না। একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস আছে, যার মাধ্যমে ক্ষমতার হস্তান্তর বা সব কার্যক্রম সংঘটিত হয়; এখন এমন কোনো প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না আমাদের দেশে। কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদল হবে, তার কোনো নিয়ম-কানুন নেই। সংঘাত বেড়ে যেতে পারে। আর যদি দেশে সংঘাত ও জটিলতা বাড়তে থাকে, তখন দৈনন্দিন জীবনই মানুষ যাপন করতে পারবে না।

তারা বলেন, যারা সরাসরি দল করে, তাদের বিপদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারাই ক্ষমতায় থাকছে, তারা বিরোধীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। এতে ক্ষমতা হারানোর ভয় সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা হারানোর পর কতটা নিপীড়নের শিকার হবে, তা ভেবেই এ ভয়। যত দিন না প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের ভালোর জন্য সমঝোতায় না আসে, তত দিন এ ভয় থেকেই যাবে। তাদের ঠিক করতে হবে, ভবিষ্যতে কীভাবে তারা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবাই মিলে পালাবদলের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারে বা ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে পারবে।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে অমর্ত্য সেন বলেছেন, “গণতন্ত্র ও উন্নয়ন মোটেই বিপরীতধর্মী নয়, বরং একে অন্যের পরিপূরক। আমরা অনেকেই ভাবব, উন্নয়ন বলতে আসলে কী বোঝা যাচ্ছে? উন্নয়ন তো কেবল রাস্তাঘাট উন্নয়নের মতো বিষয় নয়। ব্যক্তিস্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নয়নের একটি অংশ।”

তারা বলেন, দেশের রাজনীতিবিদদের বিষয়টি বুঝতে হবে যে, তারা এভাবে বেশি দিন চলতে পারবে না। আফ্রিকায়ও এমন অনেক দেশ আছে, যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েই চলেছে। সহিংসতা জন্ম দেয় আরো সহিংসতা এটা এমন নয় যে, সহিংসতার মাধ্যমেই সহিংসতা থামানো যাবে। একদল সহিংসতা করলে অন্য দলও প্রতিহিংসা নিতে চায়। অতএব সহিংসতা দিয়ে কোনো সমাধান হবে না। সহিংসতার পথ গণতন্ত্রের পথ নয়।

মতামত