১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার

ক্যাসিনোতে চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক

মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ক্যাসিনো থেকে দৈনিক চাঁদাবাজি করে একাধিক ফ্ল্যাট ও ১৪টি গাড়ির মালিক এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল। এছাড়াও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। ২০১০ সালে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর কমিটির আগামী সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী তিনি।

সোহেলের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের জালালাবাদ ইউনিয়নে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। ২ কোটি টাকার ২টি হ্যারিয়ার গাড়িসহ ১৪টি গাড়ির মালিক। এর মধ্যে ১০টি গাড়ি দিয়েছেন পরিবহন সার্ভিসে ব্যবসার জন্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজ নামে তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৩ কোটি টাকা করে। এছাড়া ক্যাসিনোর চাঁদাবাজির টাকায় তিনি একটি হাউজিং কোম্পানি খুলে সেখানে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা। ইত্তেফাক’র এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

সোহেল একে একে বিয়েও করেছেন চারটি কিন্তু কোন সংসারই স্থায়ী হয়নি। কিন্তু প্রথম বিয়ে টিকেছে শুধু ৫/৬ বছর। পরের তিনটি বিয়ে গড়ে ৩/৪ মাস করে টিকেছে।

১৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এর পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে সোহেল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর পালিয়ে যান। সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলের তিনি প্রিমিয়াম গ্রাহক। সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

সোহেলের সহযোগীরা জানান, মতিঝিল ক্লাব পাড়াসহ ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান এলাকার ক্যাসিনো থেকে প্রতিদিন চাঁদা তোলেন আরমান ও সোহেল। প্রতিটি ক্লাব থেকে দিনে ন্যূনতম ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি হয়। এই চাঁদার অংশ প্রথমে সম্রাট ও খালিদের কাছে হিসাব জমা হয়। সেখান থেকে সোহেল ক্লাব প্রতি গড়ে ১০ ভাগ কমিশন পান।

পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, সোহেলের বাবা মৃত মোহাম্মদ আলী ছিলেন বাড্ডার আলাতুন্নেছা স্কুলের দপ্তরী। বাড্ডায় ভাড়া করা বাসায় সোহেলের বেড়ে ওঠা। ২০১৩ সালে সোহেল মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় যাতায়াত শুরু করেন। এরপরই তার চোখের সামনে বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান মিলে। চাঁদাবাজির টাকায় প্রথমে মধ্য বাড্ডার গ-৪৭ নম্বর হোল্ডিংসের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ১৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেন। এ সময় সোহেল মোটরবাইক ছেড়ে প্রাইভেটকার চালাতে থাকেন। মাস ছয়েকের মধ্যে তিনি হ্যারিয়ার ব্র্যান্ডের দামি গাড়ির মালিক হন।

আরো জানা যায়, গত বছর তিনি মধ্য বাড্ডার প-৬৬ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট কিনেন। তিনি বাড্ডার ট-১ নম্বর হোল্ডিংসে এএনজেড প্রপার্টিজের একটি অ্যাপার্টমেন্টের দ্বিতীয় তলায় দুইটি ফ্ল্যাট কিনেন। ফ্ল্যাট দুইটি একটি করে তিনি বসবাস করছেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই এই ফ্ল্যাট থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন বিষয়টি সোহেল তার ক্ষমতা দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন। এছাড়া তিনি ১০টি বাস কিনে আসিফ নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ীর কোম্পানিতে দিয়েছেন।

সূত্রঃবাংলা

মতামত